নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগকে ‘অনৈতিক, স্বার্থসংঘাতপূর্ণ ও আইনি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিতর্কিত পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রতিক্রিয়া জানান কাউন্সিল নেতারা। তারা এও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধারের আহ্বানও জানিয়েছেন নেতারা।
বিজ্ঞাপন
সংসাদ সম্মেলনে ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের পক্ষথেকে জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়। এই সভার মূল উদ্শ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।
নেতারা বলছেন, ‘যাকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বর্তমান গভর্নর অতীতে সেই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।’
এছাড়া গভর্নরের ‘ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্রে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের’ পরামর্শক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এমনকি ‘বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই’ বহিরাগত ব্যক্তিকে কার্ড ইস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কাউন্সিল নেতারা বলেন, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না। পাশাপাশি, ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বর্তমান রাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সময়ে এমন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আইন ও প্রথা- উভয়েরই লঙ্ঘন।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে ‘একচেটিয়া বাজার’ তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ‘অশনিসংকেত’।
কাউন্সিলের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও অসংখ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে (সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত)। অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। এই বাস্তবতায় নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা গভীর ও স্বচ্ছ পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবিও জানানো হয়। এগুলো হলো- বিতর্কিত ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ, ১৬ ফেব্রুয়ারির জরুরি পর্ষদ সভা স্থগিত, স্বার্থের সংঘাত ও স্বজনপ্রীতির নিরপেক্ষ তদন্ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও পেশাদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনে নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা।
নেতারা বলেন, ‘আজ নীরব থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের সততা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাই আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা বাধ্য হয়েই সোচ্চার হয়েছি।’
টিএই/এএম




