ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বাংলাদেশের বেসরকারিখাতের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতি দীর্ঘ সময় ধরে চালু থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তা প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না এবং উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
আজ সোমবার ডিসিসিআইয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো জানায়।
বিজ্ঞাপন
ডিসিসিআই জানিয়েছে, বেসরকারিখাতের ঋণ প্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসে ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৬.১% হয়েছে। উচ্চ সুদের হার ও ঋণের অতিরিক্ত ব্যয় শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় থামিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রড মানি (M2) প্রবৃদ্ধি জুন ২০২৫-এ ৭% থেকে ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৯.৬%-এ পৌঁছেছে, যা সংকোচনমূলক নীতির কার্যকারিতা ও নীতিগত সামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিও ২০২৫ অর্থবছরে ২২.৪৮% নেমে এসেছে, যা ২০২৩ অর্থবছরের ২৪.১৮%-এর থেকে কম। রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে; গত ছয় মাসে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমে ডিসেম্বর ২০২৫-এ -১৪.২৫%-এ পৌঁছেছে। ডিসিসিআই বলেছে, এটি বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছে, বাস্তবভিত্তিক ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হোক। যেখানে রাজস্ব ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সমন্বয়, নমনীয় তারল্য ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভারসাম্য নিশ্চিত করা হবে।
ডিসিসিআইয়ের দাবি, অতিমাত্রায় কঠোর ও দীর্ঘায়িত সংকোচনমূলক নীতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
এমআর/এআর




