নির্বাচনের আগে ঢাকার পুঁজিবাজারে আবারও চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে। সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ঝুঁকিপূর্ণ জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো।
গত সপ্তাহে চার কার্যদিবসের মধ্যে দুই দিন দৈনিক লেনদেন ছাড়িয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। একদিন তা উঠে যায় ৭০০ কোটিরও বেশি। সপ্তাহ শেষে লেনদেন কিছুটা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকায়। এর মধ্যেই বাজারের প্রধান সূচক বেড়েছে প্রায় ৮০ পয়েন্ট এবং চলতি বছরে প্রথমবারের মতো বাজার মূলধন ৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
লেনদেনের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে শেয়ার বেচাকেনা হয় ৬২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। পরদিন তা বেড়ে প্রায় সাড়ে ৭শ’ কোটিতে পৌঁছায়। তৃতীয় কার্যদিবসে সামান্য কমলেও লেনদেন থাকে ৭০০ কোটির ওপরে। তবে শেষ কার্যদিবসে বড় পতনে লেনদেন নেমে আসে ৫৮৭ কোটি টাকায়।
বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই দামের শীর্ষ ১০ বৃদ্ধিশীল কোম্পানির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ৯টি জেড ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান। আগের সপ্তাহেও এই তালিকায় ছিল ৭টি জেড কোম্পানি। বিপরীতে, দাম কমতির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে মূলত ভালো মানের প্রতিষ্ঠান, যেখানে জেড ক্যাটাগরির কোনো কোম্পানিই নেই।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে যেসব শেয়ার মৌলভিত্তিতে শক্ত নয়, সেগুলোতেই বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই প্রবণতা বদলানো না গেলে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
খাতভিত্তিক হিসাবে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের ৩৬ প্রতিষ্ঠানে গড় লেনদেন বেড়েছে ১১৬ শতাংশের বেশি, যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকায়। সিমেন্ট খাতেও লেনদেন দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে বিমা খাতে, যেখানে উল্লেখযোগ্য হারে লেনদেন কমেছে।
বিজ্ঞাপন
তালিকাভুক্ত ২১ খাতের মধ্যে ১২ খাতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে। নির্বাচনের আগে এই চাঙাভাব কতটা টেকসই হবে, নাকি আবারও ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলবে— তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এমআর/এফএ

