বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর্থিকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রকৃত অর্থ লুটপাটকারীদের কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৯টি সুপারিশও করেছেন তারা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি, ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচিতে এই অভিযোগ করেন তারা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও অভিযোগ করেন, বিগত কয়েক বছরে আর্থিকখাতে সংঘটিত অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের দায় প্রকৃত অপরাধীদের ওপর না গিয়ে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘পিকে হালদার সংশ্লিষ্ট আর্থিক কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও উচ্চ আদালত এরআগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন আদেশ বাতিল করেছিলেন। তা সত্ত্বেও নতুন করে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য।’
আরও পড়ুন:
৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত, ৩টিকে দেওয়া হলো সময়
তারা বলেন, ‘জনগণের আমানত রক্ষা এবং আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল রাখতে অবসায়নের পথ নয়, বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পুনর্গঠন, পুনর্বিন্যাস ও সুশাসনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করা জরুরি।’
বিজ্ঞাপন
এসময় অবিলম্বে আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে মানবিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে টেকসই সমাধানের আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের হেড অব ক্যাড মো. শরীফ খান, এসপিও মো. তাওহীদুজ্জামান তাওহীদ, মো. মহিউদ্দিন (অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট), মো. জহিরুল আলম (সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের অফিসার মো. আজিজুল হক প্রমুখ।
আর্থিকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ৯ সুপারিশ করা হয়-
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়ন না করে সুশাসনের মাধ্যমে সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া
- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুনর্গঠন ও কার্যক্রম স্বাভাবিককরণ
- প্রকৃত অর্থ লুটপাটকারী ও ঋণ জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
- খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পদ জব্দ ও বিক্রির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি, বেতন, অবসর সুবিধা ও ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- আমানতকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা
- আর্থিকখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
- প্রয়োজনে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আনা
- নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা শক্তিশালী করা
টিএই/এএম

