দেশের শরীয়াহভিত্তিক জীবন বীমা খাতে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রিমিয়াম আয়, নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ, লাইফ ফান্ড বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে দৃঢ় অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা তাদের বাজারে শক্ত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
২০২৫ সালে জেনিথ ইসলামী লাইফের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালের ৩৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা থেকে ৪০.৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটি অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এ বছর নতুন প্রিমিয়াম এসেছে ২৪ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৮.২৩ শতাংশ বেশি। একক বীমা থেকে এসেছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং গ্রুপ ও হেলথ ইন্সুরেন্স থেকে ২ কোটি ৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম। মোট প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৫.৮১ শতাংশ বেশি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বীমা কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
নবায়ন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রেও স্থিতিশীল বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালে নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ হয়েছে ১৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা ৭.৩৬ শতাংশ বেশি। এটি গ্রাহক সন্তুষ্টি ও পলিসি ধরে রাখার সক্ষমতার প্রমাণ।
ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কোম্পানিটি দক্ষতা দেখিয়েছে। অনুমোদিত ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় ০.৬১ শতাংশ কমেছে। মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে ৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করে।
বীমা দাবি পরিশোধে জেনিথ ইসলামী লাইফ অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ২০২৫ সালে মোট উত্থাপিত দাবির পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এতে দাবি পরিশোধের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৫৪ শতাংশ, যা আগের বছরের ৯৮.১৩ শতাংশের তুলনায় ১.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিজ্ঞাপন
লাইফ ফান্ডে কোম্পানিটি ২৯.৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। নতুন তহবিল যুক্ত হয়েছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, মোট বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা ৮.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
জেনিথ ইসলামী লাইফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেছেন, ২০২৫ সালের এই সাফল্য আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যবসা কৌশলের ফল। আমরা শুধু প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নই; বরং শরীয়াহ সম্মত, স্বচ্ছ ও নৈতিক বীমা সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রায় শতভাগ দাবি পরিশোধ আমাদের গ্রাহকের আস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রমাণ।
তিনি আরও জানান, দেশের সরকারি ও বেসরকারি ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জেনিথ ইসলামী লাইফের গ্রুপ বীমার আওতায় এসেছে। এস এম নুরুজ্জামান বলেছেন, কোম্পানি ভবিষ্যতেও টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং নৈতিক বীমা সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের ইসলামী জীবন বীমা খাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এমআর/এএইচ

