বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঋণের চাপ কমাতে বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অর্থ বিভাগের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ঋণের চাপ কমাতে বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অর্থ বিভাগের

ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণের চাপ কমানোর লক্ষ্যে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (বিআইপি) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমন্বয়, পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে সরকারি অর্থ ব্যবহারে দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে জুন মাসে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণসহ সামগ্রিক বাজেট ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শনিবার অর্থ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্ট্রেংথেনিং পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনেবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। 


বিজ্ঞাপন


কর্মশালায় ১৮টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় জানানো হয়, সরকারকে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ করতে হয়। অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আহরণ কম থাকায় সরকারকে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়, যা আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অর্থবছরের শুরু থেকেই বাজেট বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতি) মো. হাসানুল মতিন। তিনি বলেন, জুন মাসে সরকারের অস্বাভাবিক ব্যয় কমানোর সঙ্গে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বাজেট বরাদ্দ যথাযথ অগ্রাধিকার ও গুণগত খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অর্থবছরের শেষ দিকে অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) ও এসপিএফএমএস-এর জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকই বিআইপি প্রণয়নে ব্যয় হয়ে যায়, ফলে পরিকল্পনার কার্যকারিতা কমে যায়। তিনি বলেন, বাজেট অনুমোদনের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগেভাগেই বিআইপি প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন, যাতে বাজেট বাস্তবায়ন আরও সময়োপযোগী ও ফলভিত্তিক হয়।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌস রওশন আরা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল। ফেরদৌস রওশন আরা বলেন, জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা একই হারে বাড়েনি। তিনি বিআইপিকে বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা জোরদারের একটি কৌশলগত কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন। মোস্তফা কামাল বলেন, টেকসই ও মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং সরকারি ব্যয়ে মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অপরিহার্য।


বিজ্ঞাপন


কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে জানানো হয়, বিআইপি বার্ষিক বাজেট বরাদ্দকে সময়ভিত্তিক ও কার্যক্রমভিত্তিক বাস্তবায়ন রোডম্যাপে রূপ দেয়। ক্রয় পরিকল্পনা, নগদ প্রবাহ ও ত্রৈমাসিক ব্যয় লক্ষ্যের সঙ্গে বাজেট যুক্ত থাকায় বছরের শুরুতে বিলম্ব এবং অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে। 

আরেকটি গ্রুপ আলোচনায় বিআইপি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিআইপি জারি বিলম্ব, বিভিন্ন সিস্টেমের সমন্বয়হীনতা, সক্ষমতার ঘাটতি, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আইবাস++, ই-জিপি ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার দুর্বল সংযোগের বিষয়গুলো উঠে আসে। এসব সমস্যা সমাধানে সময়মতো বিআইপি জারি, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন জোরদার, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং অর্থ বিভাগের নেতৃত্বে সমন্বয় বাড়ানোর সুপারিশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

এমআর/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর