বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এতে জাপানের বাজারে অন্তত সাত হাজার পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, শুল্ক সুবিধা, বিনিয়োগ সুরক্ষা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং মেধাস্বত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তির আলোচনার প্রাথমিক ধাপে বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ গবেষণা দল ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ১৭টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনার সুপারিশ করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১২ মার্চ উভয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেয়।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এক বছরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও সাত দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
চুক্তিটি কার্যকর হলে স্বাক্ষরের দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এতে তৈরি পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
তৈরি পোশাক খাতে এক ধাপ রূপান্তর সুবিধা কার্যকর হবে। পাশাপাশি সেবা বাণিজ্য খাতে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি খাতের ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করবে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এতে দেশে জাপানি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জাপান আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চুক্তি সম্পাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানানো হয়।
এমআর/এএস




