মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ড নিলাম স্থগিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ড নিলাম স্থগিতের দাবি
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ড সংক্রান্ত যেকোনো নিলাম, বরাদ্দ বা ইজারা কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। জনস্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক জরুরি নোটিশে এই দাবি জানানো হয়।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এসব জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ, যা জনগণের ট্রাস্ট হিসেবে ব্যবস্থাপনা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ স্পেকট্রামের খণ্ডিত ২৫ মেগাহার্টজ অংশ নিলামের প্রস্তাব অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর এবং জনস্বার্থবিরোধী বলে দাবি করে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বেঞ্চে জনস্বার্থে রিট পিটিশন নং ৫৩৮/২০২৬ দায়ের করেছে। রিট আবেদনে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের খণ্ডিত অংশ নিলামের প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আদালত রুল নিসি জারি করেছেন। ফলে স্পেকট্রামটির যেকোনো অংশের নিলাম, বরাদ্দ বা ইজারা সংক্রান্ত কার্যক্রম বর্তমানে বিচারাধীন হিসেবে বিবেচিত।

এই প্রেক্ষাপটে আদালতের আদেশ, আইনগত শিষ্টাচার ও বিচারিক শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিটিআরসির কাছে সব ধরনের কার্যক্রম চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের অবশিষ্ট ২০ মেগাহার্টজ অংশ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিচারাধীন রিট পিটিশন নং ৪৯৬/২০১৫–এর ক্ষেত্রেও তারা পক্ষভুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। ওই মামলার নিষ্পত্তি ছাড়া এই স্পেকট্রাম ব্যান্ডের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয় বলে মত সংগঠনটির।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, অব্যবহৃত স্পেকট্রাম রাষ্ট্রের দখলে ফিরিয়ে এনে ৪৫ মেগাহার্টজ সম্পূর্ণ ব্লক আকারে একত্রে নিলাম করা হলে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়, উন্নত নেটওয়ার্ক সুবিধা এবং রাষ্ট্রের ফিডিউশিয়ারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন সম্ভব হবে।

নোটিশে সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানায়, তাদের সব কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে পরিচালিত। এ বিষয়ে তাদের কোনো বাণিজ্যিক বা প্রতিযোগিতামূলক স্বার্থ নেই। মূল লক্ষ্য হলো স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সাংবিধানিক অনুশাসন নিশ্চিত করা।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিচারাধীন অবস্থায় নিলাম প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া আদালতের মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা এবং জনস্বার্থের পরিপন্থি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ কারণে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে বিটিআরসির পক্ষ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।

এমআর/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর