মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

সুতা আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

সুতা আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর

সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ‘মারাত্মক বিপর্যয়কর’ ও ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। সংগঠন দুটির নেতারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নিট পোশাক খাতের ২৭ বিলিয়ন ডলারের রফতানি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতেও।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।


বিজ্ঞাপন


সেলিম রহমান বলেন, ‘বিশ্ববাজারের মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট— এই ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ পোশাক শিল্পকে আরও কোণঠাসা করে দেবে। ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় পোশাক শিল্পের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে নিট পোশাক খাতের একক অবদান ৫৫ শতাংশ বা প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। এ খাতের ওপর নির্ভর করে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান।

সেলিম রহমান বলেন, ‘বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগই আশির দশক থেকে পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট পোশাক রফতানি বেড়েছে ৯.৭২ শতাংশ। একই সময়ে সুতা আমদানিও ওজনে প্রায় ৯৯ শতাংশ বেড়েছে, যা স্বাভাবিক বাজার অর্থনীতির প্রতিফলন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ‘৩০ কার্ডেড’ সুতার দাম কেজিপ্রতি ২.৫০ থেকে ২.৬০ ডলার, সেখানে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো একই সুতা ৩ ডলারে সরবরাহ করতে চাইছে। এতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৪০ সেন্ট বা ৪৬ টাকার বেশি খরচ পড়ছে। বিশ্ববাজারে এক-দুই সেন্টের ব্যবধানে অর্ডার হাতছাড়া হয়, সেখানে কাঁচামালে কেজিতে ৪০ সেন্ট বাড়তি খরচ করা বাস্তবসম্মত নয়।’


বিজ্ঞাপন


বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ‘দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহৃত হচ্ছে না এবং তারা প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুতা— যেমন পিমা, সুপিমা বা সুভিন— পর্যাপ্ত পরিমাণে ও সময়মতো সরবরাহ করতে সক্ষম নয়। আমদানির বিকল্প পথ বন্ধ হলে স্থানীয় বাজারে একচেটিয়া পরিস্থিতি তৈরি হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রফতানি কমেছে ২.৬৩ শতাংশ। শুধু ডিসেম্বর মাসেই রফতানি কমেছে ১৪.২৩ শতাংশ। এই অবস্থায় সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ হলে ক্রয়াদেশ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো— সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার, শুল্কের পরিবর্তে স্পিনিং মিলগুলোকে সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতসহ উৎপাদন খরচ কমাতে কর রেয়াত ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা বলেন, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

টিএই/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর