মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড

এবার সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। রাজস্ব আয়ে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। রাজস্ব উদ্বৃত্তের গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৫ এই পাঁচ বছরে বন্দরে রাজস্ব আয় এবং উদ্বৃত্তে ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

এছাড়া ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, এটাও গত পাঁচ বছরের হিসেবে সর্বোচ্চ।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতার ফলে এই ইতিবাচক অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় সম্পদ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বন্দরের এই প্রবৃদ্ধি। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। এতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অনেক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

এনসিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাল, আদালতের দিকে নজর বন্দর সংশ্লিষ্টদের

বন্দরের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫,৪৬০.১৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২,৩১৭.৫০ কোটি টাকা। ফলে করপোরেট করের আগে রাজস্ব উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩,১৪২.৬৮ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে ২০২৪ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫,০৭৬.৭৫ কোটি টাকা, ব্যয় ২,১৫৩.৫৮ কোটি টাকা এবং উদ্বৃত্ত ছিল ২,৯২৩.১৭ কোটি টাকা। একইভাবে ২০২৩ সালে আয় ছিল ৪,১৬৫.১৯ কোটি টাকা, ব্যয় ২,০২২.০৮ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ২,১৪৩.১১ কোটি টাকা। ২০২২ ও ২০২১ সালেও রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তে ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়।

রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভ্যাট, কর ও কর বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) মিলিয়ে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাতীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ১,৮০৪.৪৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশের বেশি।

 

এর মধ্যে কর বাবদ ৭৯৫.০৪ কোটি টাকা, ভ্যাট বাবদ ৮০৯.৪৩ কোটি টাকা এবং এনটিআর হিসেবে ২০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্যাট, কর ও কর বহির্ভূত আয় হিসেবে জাতীয় কোষাগারে মোট ৭,৫৮০ কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা দিয়েছে। এ সময়ে কর থেকে এসেছে সর্বোচ্চ অংশ, যা সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পষ্ট করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্ত দুই ক্ষেত্রে এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবদান আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

অর্থায়নের আগে বে-টার্মিনাল প্রকল্প ঘুরে গেল বিশ্বব্যাংকের দল

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, চট্টগ্রাম বন্দর হলো পুরো দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখান দিয়ে দেশের ৯০ শতাংশ আমদানি-রফতানি হয়। মোংলা বন্দর সেভাবে কাজ করে না। চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক টার্মিনাল এখনো চালুই করা যায়নি। ছোট একটি টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সৌদি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটাও ঠিকভাবে কাজ করছে না। নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় রয়েছে নৌবাহিনীর একটি সংস্থা।

যেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ডিবি ওয়ার্ল্ডকে সরকার টেন্ডার ছাড়া দিতে চাইছে। শেখ হাসিনার সরকার এই ক¤পানিকে টেন্ডার ছাড়া দিতে চেয়েছিল। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার কথাটা এখানে উঠে আসছে। অথচ বন্দরের সক্ষমতা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাড়ছে। এতে বাড়ছে রাজস্ব আয়ও। সক্ষমতা যতই বাড়বে, আয়ও ততই বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর