বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বৈধপথে স্বর্ণ আমদানিতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

বৈধপথে স্বর্ণ আমদানিতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে এনবিআর
আগারগাঁওয়ে এনবিআরের ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

বৈধপথে স্বর্ণ আমদানি করতে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি উত্থাপন করা হলে এনবিআর সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের নিয়মিত আয়োজন ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব বলেন।
 
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে স্বর্ণ আমদানি করতে চান, তাদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত। অথচ বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত ও আমদানিকৃত অধিকাংশ স্বর্ণই অবৈধ পথে আসছে। এমনকি এই অবৈধ প্রক্রিয়ায় এনবিআরের কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খানের নেতৃত্বে স্বর্ণ ও গহনা খাতের ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্যবসায়ীরা তাদের খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্বর্ণ ব্যবসা খাত দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, দুর্বল কমপ্লায়েন্স এবং নীতিগত ঘাটতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব বোর্ড কাজ করছে। তিনি বলেন, ব্যবসার প্রকৃত লেনদেন সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে টার্নওভার ট্যাক্স আরোপের প্রয়োজন হবে না। বরং প্রকৃত মুনাফার ভিত্তিতে কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে সরকার।

স্বর্ণ চোরাচালানকে কেন্দ্র করে অনেক সময় জীবনহানির ঘটনাও ঘটে উল্লেখ করে আবদুর রহমান খান বলেন, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ আমদানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার এখনই সময়, যা ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি কমাবে এবং খাতটির উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেন যে দেশে অবৈধ পথে স্বর্ণ আসছে। তবে তারা এই অপবাদ ও জটিলতা থেকে মুক্তি চান।


বিজ্ঞাপন


ব্যবসায়ীরা বলেন, আমদানির পথ সহজ করা হলে অবৈধ বাণিজ্য কমবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা আসবে। তারা চোরাকারবার নয়, বরং ভ্যাট ও করের আওতায় বৈধভাবে ব্যবসা করতে চান। এ লক্ষ্যে আমদানি সহজ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাজুস।

বাজুসের এক নেতা অভিযোগ করেন, অতীতে সরকার স্বর্ণ আমদানির জন্য ১৮টি লাইসেন্স দিলেও এর মধ্যে অন্তত ১০ জন প্রকৃত ব্যবসায়ী ছিলেন না। গহনা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদের, এমনকি একজন ক্রিকেটারকেও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, অথচ প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাদ পড়েছেন। তাদের দাবি, চোরাকারবারিরা মূলত আইনি ঝামেলা এড়াতে লাইসেন্স সংগ্রহ করে। তাই বৈধ আমদানির জন্য প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরই লাইসেন্স দেওয়া উচিত।

আরেক ব্যবসায়ী জানান, ব্যাংকগুলো গহনা খাতে ঋণ দিতে অনাগ্রহী, যা ব্যবসার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারত, সিঙ্গাপুর কিংবা দুবাইয়ের তুলনায় দেশের বাজারে প্রতি ভরিতে অন্তত ৩০ হাজার টাকা বেশি দামে স্বর্ণ বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক সময় অবৈধ উৎসের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায় বিপুল মূলধনের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো সহজ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে স্বর্ণের দাম ৯০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হলেও আমদানিতে প্রতিবার নির্ধারিত শুল্ক দুই হাজার টাকা রাখা হয়েছে, যা একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাটের ক্ষেত্রেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি যৌক্তিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে কর প্রদান সহজ করতে এবং সঠিক তথ্য জমা নিশ্চিত করতে আলাদা একটি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
 
এমআর/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর