মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করে জনবান্ধব জ্বালানি নীতি চায় ক্যাব যুব সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করে জনবান্ধব জ্বালানি নীতি চায় ক্যাব যুব সংসদ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানি খাতের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করে তা জনসেবামূলক খাতে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অঙ্গ সংগঠন ক্যাব যুব সংসদ। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে জনবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ক্যাব যুব সংসদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম, অরিত্র রুদ্রধার, নওশীন জাহান তাকিয়া, সাবাত মোস্তফা প্রথন এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাফকাতুল আরেফিন।

১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তালহা বিন ইমরান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব খান সামি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার আলোকে জ্বালানি খাতে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সুবিচার নিশ্চিত করতেই এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

ক্যাব যুব সংসদ জানায়, জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে নয়, বরং একটি জনসেবামূলক খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফাভিত্তিক ব্যবস্থা বন্ধ করে জনবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, কস্ট প্লাস পদ্ধতির পরিবর্তে ব্যয়ভিত্তিক জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ, জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ধাপে ধাপে কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেওয়া।

এ ছাড়া এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ বন্ধ, দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে শতভাগ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা এবং গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ দেশীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আদানির সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিল, স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০-এর আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি ও লাইসেন্স বাতিল এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের দাবিও তোলা হয়। একই সঙ্গে এসব চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায়ের আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এলপিজি বাজারকে ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করে প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজি টার্মিনাল ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, কমিশন–সংক্রান্ত আইনি সংস্কার এবং জনবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২-এ স্বাক্ষর থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ক্যাব যুব সংসদ জানায়, জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।


এএইচ/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর