রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া সরকারের পক্ষে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এই মুহূর্তে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো সম্ভব নয় জানিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত এখন অনেকটা স্থিতিশীল। তবে ব্যাংক সুদের হার এখনই কমানো সহজ নয়। ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির সহায়তা ছাড়া সরকারের একার পক্ষে মূল্যস্ফীতিও কমানো সম্ভব নয়।’

অর্থ উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগ আমলের দেড় দশকে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে লুটপাট ও পাচার করে এ খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার এসে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা এসব আবজর্না বাইরে বের করেছে। শুরু হয়েছে ব্যাংক খাতে নানা সংস্কারও।

সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, দ্রুত বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ব্যাংকিং খাত এখন অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু ব্যাংক সুদের হার এখনই কমানো সহজ নয়।

কেবল সুদের হারই যে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে সক্ষম না মানছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘তবে ইন্টারেস্ট যে কমে নাই তা না। ট্রেজারি বিল তো কমে গেছে, বোধহয় ১২ ছিল এখন ১০ না? যারা ট্রেজারি বিল কেনেন তারা দেখছেন। তো কমছে তো, এটার রিফ্লেকশন মার্কেটে (আছে)। হয়তো তথ্যটা (এখনো) আসে নাই।


বিজ্ঞাপন


‘আবার ট্রেজারি বিল বা গভর্নমেন্ট বরোয়িং যদি বাড়িয়ে দেয় লোকজন আপনার ব্যাংকেই টাকা রাখবে না। সবাই সঞ্চয়পত্র বা ট্রেজারি বিলে চলে যাবে। সেটা আমরা চাই না। আসলে ব্যাংক ইজ দ্য ইন্টারমিডিয়ারি বা নন-ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন ইন্টারমিডিয়ারি, তারা আপনাদের সঞ্চয় আর ক্রেডিটের মধ্যে একটা ব্রিজ তৈরি করে, তাই তো কাজ ব্যাংকারদের।’

‘তবে ব্যাংকিং সেক্টরটা মোটামুটি কিন্তু আমরা যেটা ইনহেরিট করেছি, অনেকটা স্টেবল, বিশেষ করে ম্যাক্রো ইকোনমিক স্টেবিলিটিটা। মানে সামষ্টিক। এখন যদি আপনি দেখেন ইনফ্লেশন বেড়ে গেছে দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। ইনফ্লেশনটা খুব সেনসিটিভ জিনিস আই অ্যাগ্রি। কিন্তু ইনফ্লেশন তো শুধু মনিটারি পলিসি, ব্যাংক রেট পলিসি রেট বাড়িয়ে কন্ট্রোল করা যায় না, সাপ্লাই দিয়ে অনেক সময় কন্ট্রোল করতে হয়। আমি সেজন্য সবসময় বলি ইনফ্লেশন ইজ আ পলিটিক্যাল ডাইমেনশন।’

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ইনফ্লেশন...আপনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের একটা ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠিয়ে দিলেন কারওয়ান বাজারে, গিয়ে একটা ফাইন করল ৫ লাখ টাকা। একটু পরেই সবাই চাঁদা তুলে ৫০০ টাকা করে ৫ লাখ টাকা দিয়ে দিল। ‘তোকে (ওই ব্যবিসায়ীকে) দিলাম ৫ লক্ষ টাকা ফাইন দিয়েছিস, আবার তোর কাজ একইভাবে শুরু কর’। তো এটা তো সমস্যার সমাধান না।’

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কমিউনিটি তারপর যারা হোলসেলার ট্রেডার এবং রিটেইলার তাদেরকেও তো সহযোগিতা করতে হবে। একসেস প্রফিট করা বা আউট অব দ্য ওয়ে প্রফিট করা মজুদ করা’ সেটা কিন্তু সরকারের পক্ষে কিন্তু করা যায় না। যেকোনো দেশেই কিন্তু যেন মার্কেট স্মুথ হয়, মনিটরিংটা স্মুথ হয়, সবার সহযোগিতা থাকলে হয়। শুধু এই কতগুলো ফিসক্যাল পলিসি, মনিটারি পলিসি আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বা ক্যাব কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এগুলো দিয়ে ওরা পারবে না। আমরা চেষ্টা করেছি মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে আসছে আরকি।’

অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশে অর্থনৈতিক স্বস্তি এখনো আসেনি। প্রয়োজন অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করা। অর্থনৈতিক স্বস্তির জন্য আগামী সরকারকে সব ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানোসহ সব অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউন্স ডিভিশনের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর