সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জ্বালানি উপদেষ্টার বৈঠক আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জ্বালানি উপদেষ্টার বৈঠক আজ
দ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। ফাইল ছবি

নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব করণীয় রয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনাও দিয়েছেন উপদেষ্টা। এরআগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে এক সভায় এলপিজির বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জ্বালানি উপদেষ্টা। সেখানেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন


বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দাম মানা হচ্ছে না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সাধারণত ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। কোনো কোনো এলাকায় এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।

গত সপ্তাহের শেষদিকে হঠাৎ করেই বাজারে এলপিজির ঘাটতি দেখা দেয়। গত বুধবার নির্ধারিত ১ হাজার ২০০ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হয় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। যদিও গ্রাহকদের কাছে এই দাম অনেকটাই ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছে। কারণ ডিসেম্বর মাসে বিইআরসি ১২ কেজির এলপিজির দাম ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করলেও পুরো মাসজুড়ে খুচরা পর্যায়ে ১ হাজার ৫৫০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি।

এই হিসাবে বুধবারের দামে আগের প্রচলিত দামের তুলনায় বাড়তি ছিল মাত্র ৫০ টাকা। তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। খুচরা বাজারে ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে এলপিজি পাওয়া যায়নি। কোথাও কোথাও ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম হাঁকা হয় ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার নিজ বাসভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, বিপিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন জ্বালানি উপদেষ্টা।


বিজ্ঞাপন


বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদও। সেখানেই এলপিজি বাজার পরিস্থিতি নিয়ে করণীয় নির্ধারণ এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না। তবে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আলোচনায় আসে। সরকারের পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে সাধারণত ওমান, কাতার, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এলপিজি আমদানি করা হয়। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে কিছু কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না, যা বাজারে সরবরাহ ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংকট স্বল্পমেয়াদি নাকি দীর্ঘমেয়াদি হবে— তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল মহল।


এমআর/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর