চিনি, এলপিজি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। একই সঙ্গে এই মূল্য কারসাজির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করে ক্যাব।
বিজ্ঞাপন
ক্যাবের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে চিনি, এলপিজি, সয়াবিন ও পাম তেলের দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে চরম হতাশা, উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আমদানি, মিল পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি প্রভাবশালী চক্র চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এক সপ্তাহ আগেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকা চিনির দাম বর্তমানে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা।
ক্যাবের অভিযোগ, সাদা চিনির আমদানি কার্যত বন্ধ থাকা এবং মিল পর্যায়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাজার অস্থির করা হচ্ছে। প্রতিবছর রমজানকে সামনে রেখে চিনির দাম বাড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যায়, এবারও সেই কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।
চিনির পাশাপাশি সয়াবিন ও পাম তেলের দামও সম্প্রতি প্রতি লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা দাম বেড়েছে ১২.৮৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ানো হলেও দাম কমার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কোনো আগ্রহ দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেছে ক্যাব।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া এলপিজির ক্ষেত্রেও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সরকার ও বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধির অজুহাতে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের একটি অংশ বাজারে কারসাজি করছে বলে ক্যাব মনে করছে।
ক্যাবের মতে, রমজান ও আসন্ন বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট চক্র পরিকল্পিতভাবে বাজারে কারসাজি করছে। প্রকৃত সরবরাহ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক সামঞ্জস্য নেই। এটি বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও কার্যকর নজরদারির অভাবেরই প্রতিফলন।
এই পরিস্থিতিতে ক্যাব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ৭ দফা দাবি জানিয়েছে—
১. মিল পর্যায়ে চিনি উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহের প্রকৃত তথ্য যাচাই করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করা।
২. চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয় ও স্থানীয় বাজারমূল্যের মধ্যে যৌক্তিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা।
৪. পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের অযৌক্তিক ব্যবধান কমাতে কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জোরদার করা।
৫. এলপিজি নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ গ্রহণ।
৬. এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মজুত, সরবরাহ ও খুচরা বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি।
৭. নির্বাচন বা অন্য কোনো অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি যেন শিথিল না হয়—সে বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
ক্যাব সতর্ক করে বলেছে, অবিলম্বে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে চিনি, এলপিজি সিলিন্ডারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের চলমান অস্থিরতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্য ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছে সংগঠনটি।
এমআর/এএস

