শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ট্রেজারি বন্ডের প্রভাবে কমলো সঞ্চয়পত্রের সুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে ভাঙছে বেশি

নতুন বছরের শুরু থেকেই সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার। ১ জানুয়ারি থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রে মেয়াদপূর্তিতে মুনাফা পাওয়া যাবে গড়ে সাড়ে ১০ শতাংশের মতো, যা এতদিন ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। আগামী জানুয়ারি–জুন সময়ে কেনা সঞ্চয়পত্রে এই নতুন হার কার্যকর হবে। তবে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রে আগের হারই বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সরকারি সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার সরকারি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও হ্রাস করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র ও পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট নামে একটি সঞ্চয় স্কিম চালু রয়েছে। সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি হারে মুনাফা দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব ও প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন হার অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে একই সীমার মধ্যে বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে প্রায় ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। পেনশনার ও পরিবার সঞ্চয়পত্রেও মুনাফার হার কমিয়ে প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি আনা হয়েছে। মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে মুনাফা আরও কম পাওয়া যাবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত মানুষের বড় একটি অংশ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকে। সুদহার কমায় এসব মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। তাঁদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ আয়ের বিনিয়োগকারীদের এই খাত থেকে সরিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সঞ্চয়পত্রে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

টিএই/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর