নিত্যপণ্যের বাজারে শীতকাল এলেও মাছ ও গরুর মাংসের দামে তেমন কোনো স্বস্তি আসেনি। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে মাছ ও গরুর মাংস একই দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এসব আমিষ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে তুলনামূলক স্বস্তির বিরাজ করছে পোল্ট্রি বাজারে। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কমায় গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যতালিকায় আবারও কিছুটা প্রাণ ফিরেছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী, রায়েরবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকারের মাছ—রুই, কাতল, বোয়াল—কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের মাছ যেমন তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি ছোট মাছের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। কৈ, শিং, টেংরা ও পুঁটি মাছের কেজি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে নামেনি। দাম অপরিবর্তিত থাকায় এসব মাছ নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান ক্রেতারা।
বিজ্ঞাপন
গরুর মাংসের বাজারেও একই চিত্র। রাজধানীর প্রায় সব বাজারেই গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভালো মানের মাংসের দাম ৯০০ টাকাও হাঁকছেন বিক্রেতারা। খাসির মাংসের দাম আরও বেশি—কেজিপ্রতি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে গরুর মাংসের পরিবর্তে বিকল্প আমিষের দিকে ঝুঁকছেন।
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা রিকশাচালক রহিম মিয়া বলেন, গরুর মাংস এখন স্বপ্নের মতো। মাছের দামও কমেনি। তাই মুরগিই ভরসা।
পোল্ট্রি বাজারে অবশ্য চিত্র ভিন্ন। কিছুদিন আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা ছিল। বর্তমানে তা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে, যা আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা কম। ডিমের দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে; প্রতি ডজন ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
>> আরও পড়তে পারেন
শীতের ছোঁয়া সবজি বাজারে, কমেছে দাম
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পোল্ট্রি এখন প্রধান আমিষের উৎস হয়ে উঠেছে। যাত্রাবাড়ীর এক গৃহকর্মী সেলিনা আক্তার বলেন, মাছ আর গরুর মাংস কিনতে পারি না। মুরগির দাম কমায় সপ্তাহে এক–দুদিন অন্তত মাংস রান্না করতে পারছি।
বিক্রেতাদের মতে, খামার পর্যায়ে সরবরাহ বাড়া এবং উৎপাদন খরচ কিছুটা কমায় পোল্ট্রির দামে এই স্বস্তি এসেছে। রায়েরবাগ বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, এখন খামার থেকে মুরগি বেশি আসছে। তাই দাম কমলেও বিক্রি বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মাছ ও গরুর মাংসের দামে স্থবিরতা থাকলেও পোল্ট্রি খাতে এই সহনীয় অবস্থা স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্যব্যয় সামাল দিতে সহায়ক হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে ভারসাম্য আনতে মাছ ও মাংস খাতে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
তারা বলছেন, নিত্যপণ্যের বাজারে মাছ ও গরুর মাংসের দামে স্বস্তি না এলেও পোল্ট্রি পণ্যের কম দাম গরিব মানুষের জন্য বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই স্বস্তির ধারা অব্যাহত থাকলে অন্তত আমিষের বাজারে সাধারণ মানুষের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ মিলবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
এমআর/এএস

