শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরানোর ওপর গুরুত্বারোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরানোর ওপর গুরুত্বারোপ

উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে না আসা শিক্ষার্থীদের ফেরানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫-এ ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক সেশনে বক্তারা বলেন, ‘আমাদের দেশের মেধাবীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন, কিন্তু দেশে তারা উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেন না। অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে আর ফিরে আসছেন না। তাদের মূল অভিযোগ, দেশে সম্মানজনক অবস্থান ও কাজের পরিবেশের অভাব।’


বিজ্ঞাপন


বক্তারা বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের অবশ্যই এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে তারা দেশে ফিরে এসে নেতৃত্ব দিতে পারেন। আমরা এই মেধাগুলোর দেশে ফেরানোর পক্ষে।’

বক্তারা সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

অর্থনীতিতে সবার অবদানের বিষয়টি উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে গরিব-ধনী সবাই অবদান রাখছেন। শিল্পপতি থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তা সবাই কর দেন। এমনকি একটি শিশুও যখন কোনো পণ্য কিনে, তখন সেখানেও ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে।’

জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরের বিষয়ে বক্তারা বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা থাকলে জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। কিন্তু প্রান্তিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সক্ষমতার অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ছে। তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত।’


বিজ্ঞাপন


ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে বক্তারা বলেন, ‘উদ্যোক্তারা বিভিন্ন জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করছে, ফলে তারা নতুন করে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।’

বিদেশি বিনিয়োগ সম্পর্কে তারা বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে স্থিতিশীলতা চান। এটি শুধু বিদেশিদের দাবি নয়, দেশের বিনিয়োগকারীদেরও দাবি। আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

তিনটি ক্ষেত্রে উন্নতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তারা বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থা পেশাভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক হতে হবে, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে অর্থনীতি ও নৈতিকতা উভয়ই উন্নত হবে।’

‘এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই মুখ্য। তবে একদিনে এ পরিবর্তন আসবে না, ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আমাদের বিপ্লবী পরিবর্তনের নয়, বরং যৌক্তিক পরিবর্তনের দিকে এগোতে হবে।-যোগ করেন বক্তারা।

এম/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর