সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ঢাকা

ব্যাংকের শরীরে যে এত রোগ তা আগে জানা যায়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যাংকের শরীরে যে এত রোগ তা আগে জানা যায়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: ঢাকা মেইল

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের যে পরিমাণ সমস্যা জমে আছে, তার গভীরতা এতদিন স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। লুকানো খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, পুঁজি সংকট ও তারল্য সমস্যাসহ বহু অসুখ এখন একে একে সামনে আসছে। এই অবস্থাকে তিনি দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল অর্থসূচক। বইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি।


বিজ্ঞাপন


ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘ব্যাংকের শরীরে যে এত রোগ তা আগে জানা যায়নি। খেলাপি ঋণের পাহাড়, প্রভিশনের গর্ত আর তারল্য সংকট—সব অসুখ একসঙ্গে ধরা পড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বহুদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা ঢেকে রাখা হচ্ছিল।’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বিনিয়োগ স্থবির, নীতিগত স্বচ্ছতা কম এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার অনুপস্থিত থাকায় সামগ্রিক অর্থনীতি এখন চাপে রয়েছে। ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে, যা বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতার সরাসরি ইঙ্গিত।

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে দেবপ্রিয় বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার সংস্কার প্রক্রিয়ায় রিলের মত দৌড়াবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তারা দৌড়াতে দৌড়াতে লাঠিটা ফেলে দিয়েছে—এখন লাঠি ছাড়া দৌড়াচ্ছে।’

বিদেশি বিনিয়োগ ও নীতিগত স্বচ্ছতার প্রসঙ্গ টেনে দেবপ্রিয় বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ ঘোষণা ও নীতিগত অস্পষ্টতা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করছে। বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, মিডিয়া সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে কোনো অগ্রগতি না থাকলেও, মাত্র ১৩ দিনে বিশাল বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদন—এটিকে তিনি সরকারের সক্ষমতার ‘বেছে নেওয়া প্রয়োগ’ বলে মন্তব্য করেন।


বিজ্ঞাপন


ড. দেবপ্রিয় প্রশ্ন তোলেন, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার আসলে কী করেছে? পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণ, প্রশাসক নিয়োগ বা কিছু নিয়ম আগের অবস্থায় ফেরানো—এসবের বাইরে স্থায়ী সমাধান কোথায়, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে ধরা পড়া এসব দুর্বলতা আমাদের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এখনই সুশাসন, স্বচ্ছতা ও সংস্কারের মাধ্যমে গভীর সমস্যা মোকাবিলা জরুরি।’

টিএই/ক.ম  

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর