রফতানির আড়ালে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা, যা আন্তর্জাতিক দর অনুযায়ী প্রায় ৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, চেয়ারম্যান এএসএফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৭টি মানিলন্ডারিং মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিগবাত উল্লাহ এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
সিআেইডি কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বেক্সিমকোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান অটোম্যান লুপ এপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিউর রহমানকে গ্রেফতার করে সিআইডি। বর্তমানে কারাগারে থাকা সালমান এফ রহমানকে এই মামলাগুলোতেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট জানায়, ট্রেড-বেইজড মানিলন্ডারিংয়ের এই জটিল তদন্ত দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় তারা নিরলসভাবে কাজ করছে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত ১৭টি করপোরেট প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক বাণিজ্যের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এডভান্স গার্মেন্টস, এপোলো এপারেলস, আউটোম্যান লুপ এপারেলস, বিক্সটেক্স গার্মেন্টস, কসমোপলিটান এপারেলস, কজি এপারেলস, ইসেস ফ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল, কাচপুর এপারেলস, মিড ওয়েস্ট গার্মেন্টস, পিয়ারলেস গার্মেন্টস, পিঙ্ক মেকার গার্মেন্টস, প্লাটিউর গার্মেন্টস, স্কাইনেট এপারেলস, ইস্প্রিংফুল এপারেলস, আরবান ফ্যাশন এবং উইন্ট্রা ইস্প্রিন্ট গার্মেন্টস লিমিটেড।
২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৯৬ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮০ মার্কিন ডলার রফতানি দেখানো হলেও তার বিপরীতে কোনো অর্থ দেশে ফেরত আসেনি। অর্থাৎ রফতানিমূল্য প্রত্যাবসন না করে বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
তদন্তে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনতা ব্যাংক পিএলসি’র মতিঝিল শাখা থেকে এলসি খোলা হলেও রপ্তানি বিপরীতে অর্জিত অর্থ দেশে ফেরত আনা হয়নি। বরং সেই অর্থ পাঠানো হয় দুবাইয়ের আর আর গ্লোবাল ট্রেডিং লিমিটেড-এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আইয়ারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে।
উল্লিখিত আর আর গ্লোবাল ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানা রয়েছে সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং চেয়ারম্যান এএসএফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমান-এর নামে।
এই ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় ১৭টি মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন চায় সিআইডি, যা সম্প্রতি প্রদান করা হয়েছে।
মামলাগুলোতে বেক্সিমকো চেয়ারম্যান এএসএস রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, আহমেদ শাহরিয়ার রহমানসহ মোট ২৮ জন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সালমান এফ রহমানের সম্পত্তি ক্রোক
আদালতের আদেশে আসামিদের বিভিন্ন সম্পদ ক্রোক করেছে সিআইডি। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা জেলার দোহার থানার প্রায় ২ হাজার শতক জমি ও স্থাপনা,গুলশানের ‘দ্য এনভয় বিল্ডিং’-এর ৬,১৮৯.৫৪ বর্গফুট ফ্ল্যাট, এবং গুলশান আবাসিক এলাকার ৬৮/এ রোডের ৩১ নম্বর প্লটে অবস্থিত ২,৭১৩ বর্গফুটের ট্রিপ্লেক্স ফ্ল্যাট।
এছাড়া আসামিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে এবং বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ক্রোককৃত সম্পত্তির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা।
একেএস/জেবি

