ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন আশিকুর রহমান সজল ও খোন্দকার ফয়সাল আজম বাপ্পী। পড়াশোনা শেষ করে সবাই যখন সরকারি চাকরির পেছনে ছুটছে, ঠিক সেসময় এই দুই স্বপ্নবাজ তরুণ ভেজালমুক্ত খাবার পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে হলেন উদ্যোক্তা। দুই বন্ধু মিলে দাঁড় করান তাদের ব্রান্ড ‘কৃষি’।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে এই ব্রান্ডের নতুন পণ্য উন্মোচন করা হয়েছে, যার নাম ও স্লোগান ‘হানি অন ইওর ওয়ে’। তারা এই উদ্যোগের মাধ্যমে মধু বিক্রির পুরো আইডিয়া যেন পাল্টে দিলেন। কারণ তারা মাত্র ৮ গ্রামের মিনি প্যাকে নিয়ে এসেছেন মধু। মূল প্যাকেটে রয়েছে ৮ গ্রাম ওজনের ২৫টি মিনি প্যাকেট, যা সহজেই ব্যাগে বা পকেটে করে যেকোনো স্থানে নিয়ে ঘোরা যাবে বা বহন করা যাবে, কোনো প্রকার বোতলের ঝামেলা ছাড়া।
বিজ্ঞাপন
গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ১০টি, ১২টি ও ২৫টি- এরকম মিনি প্যাক দিয়ে বক্সগুলো সাজিয়েছেন তারা, যার দামও তারা নির্ধারণ করেছেন গ্রাহকদের আয়ত্তের মধ্যে, গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে।

বাংলাদেশে যে কয় প্রকারের মধু সচারাচর পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোই ভেজালমুক্তভাবে সংগ্রহ করে কৃষি হানির মাধ্যমে পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা খোন্দকার ফয়সাল আজম বাপ্পী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কৃষি হানি অনেকের জীবনেই স্বস্তি দেবে। আমাদের কৃষি হানির বক্স ও বক্সের মধ্যকার মধুর মিনি প্যাকগুলো সহজেই যেকোনো স্থানে বহন করতে পারবেন ক্রেতারা এবং চিনির বিকল্প হিসেবে তারা এটিকে ব্যবহার করতে পারবেন।’
বিজ্ঞাপন
বাপ্পী বলেন, ‘চায়ের কাপে চিনির বিকল্প হিসেবে কিংবা পাউরুটিতে জেলির বিকল্প হিসেবে আমাদের কৃষি হানি ব্যবহার করতে পারবেন সবাই। আমরা মিনি প্যাকে গবেষকদের পরামর্শ অনুসারে পরিমাণ নির্ধারণ করেছি, যা কারও জন্য কোনো প্রকার ক্ষতির কারণ হবে না।’
বাপ্পী আরও জানান, কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন সময়ে তাদের দুই বন্ধুর উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলার পর থেকে প্রতি বছর তারা বাড়ির জমিতে খেজুর গাছ রোপণ করছেন যাতে একটা সময় পরে তারা নিজেদের বাড়ির খেজুর গাছ থেকেই গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
জানা গেছে, তারা প্রায় ১০০ প্রকারের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য নিয়ে কাজ করছেন। যার মধ্যে রয়েছে, তেল, মশলা, মধু, গুড় ইত্যাদি। তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিইউ মার্ট, কৃষি, বায়োমি এগ্রো, মেডিকেল প্লাস।

উদ্যোক্তরা নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে হাজির হন। তাদের একেকটি ব্যবসায়িক আইডিয়া লাখ লাখ মানুষের জীবনকে সহজ করে, কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং সমাজ ও দেশকে সমৃদ্ধ করে।
‘কৃষি হানি’র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. মুস্তাফিজুর রহমান, বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক এমডি. কাইয়ুম হোসেন, বিএসটিআই পরীক্ষক মো. মেহেদী হাসান, পুষ্টিবিদ সুমাইয়া শিলা ও বিসিএস (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা ড. আকিব হোসেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উদ্যোক্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এসময় অতিথিরা মধুর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন এবং উদ্যোক্তা ফয়সাল ও সজলের জন্য শুভকামনা জানান। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স আরও সহজলভ্য করার আহ্বানও জানান।
এএইচ
