দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে নেমেছে পর্যটকের ঢল। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমুদ্র সৈকত এলাকা। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানে ভিড় করছেন। ছুটির এই সময়ে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে অন্তত শতকোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ থেকে হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসের সব রুম বুক হয়ে যাওয়ায় অনেকেই আবাসন সংকটে পড়েছেন। পরিবহন সেক্টরেও মিলছে না সহজে টিকিট।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মাহমুদুল ইসলাম জানান, অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত কষ্ট করে নন-এসি বাসের টিকিট পাওয়া যায়। তবে পরিবার নিয়ে আনন্দঘন সময় পার হয়েছে।
![]()
বগুড়া থেকে আগত পর্যটক সমির মল্লিক বলেন, অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে রুম পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে ঢাকার গরম থেকে মুক্তি পাওয়ায় কক্সবাজারে আসতে দারুণ লেগেছে।
নরসিংদি থেকে আগত পর্যটক মনির আহমেদ জানান, পরিবার নিয়ে ইনানিতে ভালো সময় কাটিয়েছি। এই ঋতুতে বৃষ্টিকে অতিরিক্ত আনন্দ হিসেবে দেখছি।
বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, সাগরের ঢেউ আর বৃষ্টিতে ভিজে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই সময়ের সমুদ্র দেখতে বেশ সুন্দর।
কক্সবাজারের সৈকত ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি, পাটোয়ারটেক, টেকনাফ, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির ও রামুর বৌদ্ধ মন্দিরসহ নানা পর্যটন স্পটে ভ্রমণ করছেন আগত পর্যটকরা।
![]()
রাজশাহী থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক দম্পতি পরিমল চন্দ্র ও শান্তি বিশ্বাস জানান, পূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছি। এখানে সমুদ্রের বড় ঢেউ কাছ থেকে দেখে প্রকৃতিকে নতুনভাবে অনুভব হচ্ছে। তবে কিছু হোটেলে খাবারের দাম বেশি বলে মন্তব্য করেন তারা।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কয়েকদিন আগে থেকেই রুম বুকিং শেষ হয়ে গেছে। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত কোথাও রুম খালি নেই। মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা হয়।
তারকা হোটেল কক্স টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ জানান, আগামী এক সপ্তাহ হোটেলের সব কক্ষ বুকিং সম্পন্ন। এবার পূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে এসেছেন। ব্যবসা বাণিজ্যে চাঙা ভাব এসেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আপেল মাহমুদ বলেন, বিপুল সংখ্যক পর্যটক আগমনের সুযোগে অপরাধীরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে সেজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পর্যটন জোনের মোড়ে মোড়ে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। চুরি, ছিনতাইরোধে চিহ্নিত পর্যটন স্পটে অভিযান চলমান রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও জেলা পুলিশ কাজ করছে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের আওতায় ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। সবমিলিয়ে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ বেষ্টনি গড়ে তুলেছে প্রশাসন।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করছে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, পর্যটকদের বিষয় মাথায় রেখে সৈকতে তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আগত পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন, আনন্দময় ও নিরাপদ করতে আমরা তৎপর।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, এবারের দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, এবার সরকারি ছুটির এই সময়ে পর্যটন খাতে অন্তত শতকোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে।
প্রতিনিধি/এসএস




