শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ঢাকা

মাংস খাওয়ার ইচ্ছে পূরণে বাধা উচ্চমূল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

মাংস খাওয়ার ইচ্ছে পূরণে বাধা উচ্চমূল্য

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য এখন মাংস খাওয়া রীতিমতো বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। গরু,খাসি কিংবা মুরগি সব ধরনের মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নিয়মিত বাজারের তালিকা থেকেও মাংস বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বাজারে মাংসের দাম চড়া থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা এখন মাংসের বাজারে যেতে সাহস পাচ্ছে না।

‎শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংস ১২০০ টাকার ওপরে। যা গত সপ্তাহের বাজারের চেয়ে প্রায় ১০০ টাকা বেশি দর বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। বাজারে দাম কিছুটা কমলেও তা অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছে।

‎মিরপুরের এক ক্রেতা রিকশাচালক সোহেল রানা বলেন, আগে প্রতি মাসে অন্তত একদিন গরুর মাংস কিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেতাম।  এখন দাম এত বেশি যে গত ৩ মাসে একবারও কেনা হয়নি। মাংস কিনতে না পারায় বাচ্চারাও মুখ ভার করে থাকে।

‎নাজমুল ইসলাম স্বল্প বেতনে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন, গত কোরবানির পর এখন পর্যন্ত গরুর মাংস কিনে খেতে পারিনি। যে হারে মাংসের দাম বেড়েছে। গরুর মাংস কিনে খাওয়া মুশকিল। বেতন পেলে মাসে একবার মুরগির মাংস কিনে নিয়ে যাই। মাংসের পাশাপাশি মসলা, তেল ও গ্যাসের খরচও বেড়ে যাওয়ায় রান্নার খরচ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

‎এদিকে বিক্রেতারাও বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও তারা দাম কমাতে পারছেন না। বাজারে মুরগি,গরুর খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ভোক্তা পর্যায়ের বাজারে প্রভাব পড়ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রহমত আলী জানান, গত কয়েকদিনে মাংসের দাম ওঠানামা করছে। মুরগি আগে আমরা কম দামে পাইকারি কিনতে পারতাম। তা খুচরা ক্রেতাদের কাছে কম দামে বিক্রি করতাম। এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে। কিন্তু দিন শেষে আমাদের কিছু করার থাকে না।


‎বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী একই কথা স্বীকার করে বলেন, আমরাও চাই সাধারণ মানুষ তাদের চাহিদা মেটাতে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিয়ে যাক। কিন্তু বড় বড় পাইকারি ব্যবসায়ীদের সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় খূুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ পড়ে। এতে সাধারণ ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে।

‎একেএস/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর