রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে গিয়ে চোখে পড়ল মাছের সারি, ভোরের কোলাহল আর হাঁকডাক। কিন্তু টাটকা মাছের সেই সারি যেন আনন্দ নয়, হয়ে উঠছে সাধারণ ভোক্তার দুশ্চিন্তার কারণ। কেননা দামে মিলছে না স্বস্তি। চাষের মাছ থেকে শুরু করে নদী ও সমুদ্রের মাছ, দামের আস্ফালন ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে বাজার ঘুরে দেখা গেল, দুই কেজির ওপরে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৭০ টাকায়। এক কেজি ওজনের রুইয়ের দামও এখন ৩০০ টাকার উপরে। কম যাচ্ছে না সিলভার কার্প মাছও। কেজি প্রতি দাম নেওয়া হচ্ছে ২৩০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। শোল মাছ প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা দরে। এছাড়া তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশেও স্বস্তি নেই। আকারে ছোট হলেও ২০০ টাকার নিচে নামছে না দাম।
বিজ্ঞাপন
বিক্রেতারা বলছেন, মাছের দাম কেনাই বেশি পড়ছে, তারা কীভাবে কম নেবেন। পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচসহ সামান্য লাভেই তারা বিক্রি করছেন।
কারওয়ান বাজারে মাছ কিনতে আসা আফজাল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রুই-কাতলা এখন গরুর মাংসের মতো দামি হয়ে গেছে। আগে সপ্তাহে চার দিন মাছ কিনতাম, এখন দু’দিনও কিনতেই হাত ফাঁকা হওয়ার অবস্থা। ব্যবসায়ীরা নিজের মতো করে দাম বাড়াচ্ছে, অথচ কেউ দেখছে না।
এদিকে, ইলিশের বাজারে দামের আগুন নিভছেই না। এক থেকে সোয়া কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম প্রায় আড়াই হাজার টাকা, মাঝারি আকারের (৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) এক কেজি ইলিশের দাম ১৭ শ’ থেকে দুই হাজার টাকা। আর ছোট আকারের ইলিশ (৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম) এক কেজির দাম দেড় হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, ইলিশের স্বাদ নেওয়ার সাধ্য নিম্ন-মধ্যবিত্তের আর নেই। এত টাকার ইলিশ পাতে নিলে, অন্য খরচে টান পড়বে।
বিজ্ঞাপন
আসিফ নামের এক ক্রেতা বলেন, অনেক দিন ইলিশ খাওয়া হয় না। এই সময়ে তো ইলিশের দাম কিছুটা কমে। কিন্তু এবার তো দেখছি দামে কোনো নড়চড় নাই। আগের বাড়তি দামই আছে। এ কারণে ইলিশ নেইনি। রুই কিনলাম।
এমআই/এফএ




