বাংলাদেশে বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি তৈরি পোশাক কারখানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কারখানা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং জাতীয় রফতানি আয়ের প্রায় আশি শতাংশেরও বেশি এই খাত থেকে আসে। তবে অধিকাংশ কারখানা এখনও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ক্রেতাদের পরিবেশ বান্ধব মানদণ্ডের চাপের কারণে শিল্পখাতকে অনিশ্চয়তায় ফেলছে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডেনমার্ক দূতাবাস ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) যৌথভাবে ‘ফ্যাক্টরিগুলোর টেকসই ও জলবায়ু উদ্যোগে সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম’ নামের একটি প্রকল্প শুরু করেছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ডেনমার্ক দূতাবাসের এসডিজি ফ্যাসিলিটি কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো— পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানায় জ্বালানির ব্যবহার পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা, শক্তি-দক্ষতা বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা। সরকারের নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট জ্বালানির ১৫ শতাংশ সরবরাহের লক্ষ্যের সঙ্গে এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রকল্প শেষে পাঁচশ’ কারখানার শক্তি ব্যবহারের বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করা হবে। পাশাপাশি কারখানা ও খাতভিত্তিক শক্তি-দক্ষতা এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে একটি উন্মুক্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যেখানে তৈরি পোশাক খাতের জ্বালানি ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য ভিজ্যুয়াল আকারে প্রদর্শিত হবে।
অনুষ্ঠানে ডেনমার্ক দূতাবাসের সাসটেইনেবিলিটি ও ভ্যালু চেইন বিষয়ক উপদেষ্টা আলী আশরাফ খান বলেন, শুধু ঢাকার কারখানাই নয়, বাইরের কারখানাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করাও জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠানে জনবল ও সম্পদের ঘাটতি রয়েছে, তাদের সহায়তা দেওয়ার দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ফ্যাক্টরি মালিক ও নীতিনির্ধারকদের কাছে পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহারের উপকারিতা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে।
বিআইজিডির গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক মুন্সী সুলায়মান বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রমাণভিত্তিক নীতি ও সুপারিশ তৈরি করা, যা বাংলাদেশের জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে এবং তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। একইসঙ্গে কারখানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে গবেষণার ফলাফল সব অংশীদারের কাজে আসে।
বিজ্ঞাপন
বিজিএমইএ পরিচালক শেখ হোসেন মুহাম্মদ মুস্তাফিজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচশ’ কারখানার জ্বালানি ব্যবহারের ধরন শনাক্ত করে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। এটি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং নতুন শুরুর পথ তৈরি করবে, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে খাতটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যাবে।
এই প্রকল্প থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তৈরি পোশাক খাতে শক্তি ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্যভিত্তিক নথি তৈরি হবে, নবায়নযোগ্য শক্তি ও শক্তি-দক্ষতার ব্যবহার বাড়াতে কার্যকর কৌশল প্রণয়ন করা যাবে এবং অনলাইন ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুরো খাতের জ্বালানি পরিস্থিতি সহজে বোঝা যাবে। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পরিষ্কার ও টেকসই জ্বালানির সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইজিডির সহকারী অধ্যাপক ও পরিবেশ ও জলবায়ু ক্লাস্টারের প্রধান ড. রোহিনী কামাল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাদমান ফয়সাল, বিকেএমইএ সহ-সভাপতি ফকির কামরুজ্জামান প্রমুখ।
এএইচ/এফএ

