হঠাৎ বাড়ল চিড়ার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২, ০৬:৪৬ এএম
হঠাৎ বাড়ল চিড়ার দাম

সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এখন বন্যা কবলিত। ওইসব এলাকায় শুকনো খাবার হিসাবে চিড়ার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই সুযোগ নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিড়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিড়ায় সর্বোচ্চ ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। আর এখানকার বানভাসি মানুষের খাবার হিসেবে চিড়া সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে পণ্যটির দাম দফায় দফায় অস্বাভাবিক বেড়েছে। তিন-চার দিনের ব্যবধানে বাজারভেদে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী দীন ইসলাম বলেন, তিন-চার দিন আগেও প্রতি ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা চিড়ার দাম ছিল দুই হাজার টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৪০ টাকা। গতকাল বুধবার তা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৭৫০ টাকায়। এ হিসাবে প্রতিকেজির দাম পড়ে ৫৫ টাকা। অর্থাৎ পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি চিড়ার দাম বেড়েছে ১৫ টাকা পর্যন্ত।

এ বাজারের মুদিদোকানি সাইফুল ইসলাম বলেন, তিন-চার দিন আগেও তিনি প্রতি কেজি চিড়া ৪৫ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। গতকাল তা ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন। সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দেওয়ায় অনেকেই সেখানে চিড়াসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার পাঠাচ্ছেন। এ কারণে বাজারে চিড়ার সংকট তৈরি হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মেসার্স সুমী এন্টারপ্রাইজের মালিক আহমেদ হোসেন জানান, বাজারে হঠাৎ করে চিড়ার সংকট তৈরি হয়েছে। আগে তিনি এক বস্তা ৫০ কেজির চিড়া কিনেছেন দুই ৫০০ টাকায় কিনেছিলেন। গতকাল বুধবার তা তিন হাজার টাকায় কিনেছেন। তাদের বাজারে দুই দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত।

বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও যারা পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে বিক্রি করছেন তাঁদের অসাধু ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হ‌ুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া এসব অসাধু ব্যবসায়ীর কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, অস্বাভাবিক দামে চিড়া বিক্রি করায় ইতিমধ্যে তাঁরা অভিযান শুরু করেছেন। তারা তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ছয় হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন।

ভোক্তা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চিড়া, মুড়ি, খই ও গুড়ের বিষয়ে বাজার তদারকি করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা না থাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার ও মাগফুর রহমান।

একেবি