শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ঢাকা

দামের আগুনে ইফতারসামগ্রীর বাজার গরম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৫, ০৯:৫৫ এএম

শেয়ার করুন:

দামের আগুনে ইফতারসামগ্রীর বাজার গরম

পবিত্র রমজানের শুরুতেই রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে ইফতারসামগ্রীর দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোজা রাখার পর সাধারণত লেবু, শসা, বেগুন, ফলমূল, মাংস, মাছসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য এসব পণ্য কেনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহের তুলনায় রমজানে দাম বেশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

লেবু ও শসার দাম বেড়েছে গত দুই সপ্তাহে ঢাকার বাজারে এক হালি লেবু ২০-৪০ টাকায় পাওয়া গেলেও, এখন তা ৫০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে রোজার মাসে ইফতারে লেবুর শরবত খাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকায় বিক্রেতারা এই পণ্যের দাম বৃদ্ধি করেছেন। গত শনিবার, ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজারে এক কেজি শসা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একদিকে দেশি শসার দাম বাড়লেও, হাইব্রিড শসাও দাম বেড়ে ৫০-৬০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। শসা ও বেগুনের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিক্রেতারা বলেছেন, রোজার প্রথম কয়েক দিনে এসব পণ্যের দাম একটু বেশি থাকে, পরে কমে আসে।


বিজ্ঞাপন


বেগুনের দামও বেড়েছে এছাড়া, বেগুনের দামও গত তিন দিনে কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। প্রতি বছর রমজানে বেগুনের দাম বাড়ে, তবে এ বছর সেটা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় হয়েছে। বাজারে ভাজা খাবারের জন্য যেসব উপকরণ প্রয়োজন, সেগুলোর দামও বাড়তে শুরু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ভাজাপোড়া তৈরিতে ব্যবহৃত পেঁয়াজুর দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে এই ধরনের পণ্যগুলোর দাম পরবর্তী কয়েক দিন পর কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

মাংস, মাছের দামও বাড়তি মাংসের বাজারও এবার বেশ চড়া। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২১০-২২০ টাকা হয়ে গেছে। দেশি গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৩০ টাকার মতো বেড়ে ৭৮০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে এবং বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে শিকারের কষ্টকরতা ও পশুর খাদ্যের খরচ বৃদ্ধি উল্লেখ করছেন।

মাছের বাজারও ভালো অবস্থায় নেই। বিশেষত খাল, বিল ও নদী থেকে আসা মাছের দাম বেড়ে গেছে এবং এখন ৫০০ টাকা কেজির নিচে পাওয়া কঠিন। তাজা ও বড় মাছের দাম আরো বেশি, ৭০০-৮০০ টাকা কেজি হতে দেখা যাচ্ছে।

ফলের দামও বেড়েছে রমজানে বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়ে। তবে বাড়তি শুল্ক এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদেশি ফলের দামেও ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। মাল্টা, কমলা, আপেল, আঙুর, আনারসের দাম কেজিতে ২০-৬০ টাকা বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গতকাল বাজারে মাল্টা বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩২০ টাকায়, যা মাত্র তিন দিন আগেও ২৭০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। অন্যান্য ফলের দামেও এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


দেশি ফলের দামও বেড়েছে, বিশেষ করে পেয়ারা, কলা, বরই, পেঁপে এবং আনারসের দামেও আগের তুলনায় ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ফলের দাম বৃদ্ধি, বিদেশি ফলের দামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিক্রেতারা।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এবার সয়াবিন তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট চলছে, যার কারণে খোলা তেলের দাম লিটারে ২৮-৩৩ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সয়াবিন তেল কিনা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু পণ্য, যেমন চিনি, আটা, পেঁয়াজ, আলু, ময়দার দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং কিছু কিছু পণ্যের দাম কমেছে।

সরকারের নজরদারি এদিকে, সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, গত বছরের রমজানের তুলনায় এবারের বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে। তবে বিশেষ কিছু পণ্যের দাম বাড়ার কারণে মানুষের জন্য ইফতার আয়োজন করতে খরচ বেড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হলে দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

ফল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোয় দাম বেড়েছে রোজায় ফলের দাম বাড়ানোর একটি বড় কারণ হলো বিদেশি ফলের উপর শুল্ক বাড়ানো। গত মাসে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ফল আমদানির উপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করেছে, যার ফলে আমদানি ফলের দাম ১৩৬ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে ফল বাজারে দাম অনেক বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শুল্ক-কর বাড়ানোর কারণে ফল আমদানির খরচও বেড়ে গেছে, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। এর ফলে রোজার সময় ভোক্তাদের অনেক বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে।

এইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর