সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

‘সোনালী, অগ্রণীর মতো বেসিকও শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

‘সোনালী, অগ্রণীর মতো বেসিকও শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক’
ফাইল ছবি

‘বেসিক ব্যাংক সরকারের কোনো ব্যাংক অর্ডারের দ্বারা স্থাপিত ব্যাংক নয়’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন মন্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে বেসিক ব্যাংকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক এ কথা বলার পরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। বাংলাদেশ ব্যাংক এমন একসময় এই মন্তব্য করেছে যখন বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের সাথে বেসিক ব্যাংকের একীভূতকরণের প্রক্রিয়া চলছে। এসব নিয়ে বেসিক ব্যাংকের জনসংযোগ শাখা থেকে ব্যাংকটির স্ট্যাটাস উল্লেখ করে এক বিবৃতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বেসিক ব্যাংকের দাবি রাষ্ট্র মালিকানাধীন অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে; বেসিক ব্যাংকও একই সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে।

বেসিক ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ প্রধান মোহাম্মদ ইশতিয়াক আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃবিতিতে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এরূপ বক্তব্য বেসিক ব্যাংকের বিষয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে এবং ব্যাংকের গ্রাহকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আমরা মনে করি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গেজেট, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রের মাধ্যমে বেসিক ব্যাংক লিমিটেডকে শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং মহামান্য আদালতের রায়ে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণকে সরকারি কর্মচারী (Public Servant) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। বর্তমানে দেশে কার্যরত রাষ্ট্র মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকগুলো যে বিধিমালা ও নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক লিমিটেডও একই বিধিমালা ও নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রুপালী, বিডিবিএল যে সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় (অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত) পরিচালিত হচ্ছে; শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে বেসিক ব্যাংক লিমিটেডও একই সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় (অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত) পরিচালিত হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

এবার গভর্নরকে বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মারকলিপি

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের তালিকায় বেসিক ব্যাংকের নাম রয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তালিকায় বেসিক ব্যাংকের নাম উল্লেখ রয়েছে।  

বেসিক ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে বেসিক ব্যাংক বলছে, দেশের ক্ষুদ্র শিল্পে অর্থায়নের লক্ষ্যে ১৯৮৯ সালে বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের কার্যক্রম শুরু হয়, যা ১৯৯২ সালে শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে একটি রাষ্ট্র মালিকাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে সরকারি আর্থিক সেবা প্রদান করে আসছে যা ২০১৫ সালে পুরোপুরি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে রুপান্তরিত হয়। (বাংলাদেশ গেজেট, জুন ২৫, ১৯৯২), (বিআরপিডি (পি-৩)৭৪৫/২০১৫-১৭১৯, মার্চ ০৩, ২০১৫)। এছাড়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যাংকিং নীতি শাখা-১ হতে জারিকৃত পত্র নম্বর অম/অবি/ব্যাঃ নীঃ শাখা-১/১১(৩৯)/৯৭/অংশ-১/২১৩ তারিখঃ ৩০.০৮.২০০৩ এ বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের প্রকৃত স্ট্যাটাস উল্লেখ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে- ‌‌বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের ১০০ ভাগ মালিকানা সরকারের এবং ব্যাংকটি কোম্পানী আইনে নিবন্ধনকৃত। সুতরাং বেসিক ব্যাংক লিঃ সাধারণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে প্রশাসনিক, আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে, সেটাই যুক্তিসংগত।
 
অন্যান্য রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ন্যায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে বেসিক ব্যাংকেও বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের মাধ্যমে নিয়মিত অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বেসিক ব্যাংক একটি সরকারি খাতের ব্যাংক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর বাংলাদেশ সরকারকে বিপুল অঙ্কের মুনাফা প্রদান করেছে, যা অন্যান্য ব্যাংকের কাছে ছিল উদাহরণ। শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকে অন্যান্য রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অনুরুপ চাকরি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী, বেসিক ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের গ্রেড নির্ধারণ এবং বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের পেনশন সুবিধা রয়েছে। এছাড়া, বেসিক ব্যাংকে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরুপে সরকারি ব্যাংকের অনুরূপ বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়। এক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রনাধীন ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

এছাড়াও বেসিক ব্যাংকে ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীগণের স্থায়ী চাকরি বিদ্যমান রয়েছে। শ্রম আইন অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেসিক ব্যাংকে সরকারি শ্রম অধিদফতর কর্তৃক অনুমোদিত ও রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি উপরোক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, দেশের অন্যান্য রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ন্যায় শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে বেসিক ব্যাংক লিমিটেডও একই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত বলে জানিয়েছে বেসিক ব্যাংক।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

ব্যাংক আলফালাহ কিনে নিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া

এর আগে, গেল ১৬ এপ্রিল বেসরকারি ব্যাংকের সাথে একীভূত না করে সরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে স্মারকলিপি প্রদান করেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই দাবিতে অর্থমন্ত্রণালয়েও স্মারকলিপি দেন তারা। এরপর পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রকে ‘বেসিক ব্যাংক সরকারি ব্যাংক কি না?’ জানতে চাওয়া হলে মেহবাউল হক বলেন, ‘বেসিক সরকারের কোনো ব্যাংক অর্ডারের দ্বারা স্থাপিত ব্যাংক না। সোনালী ব্যাংকের যেমন ব্যাংক অর্ডার আছে, বেসিকের তেমন নেই। একটা আইন দ্বারা কিন্তু সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত। বেসিক ব্যাংক কোনো আইন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত না। সরকার যেমন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ড করে, তেমনি বেসিকেরও শেয়ার হোল্ড করে। তিনি আরও বলেন, সরকারি আর বেসিকের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সরকার যেটা রেভিনিউ থেকে দেয় সেটাই কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে সরকারের কমার্শিয়াল কাজের জন্য স্টাবলিষ্ট করা। বেসিকও তেমন একটা প্রতিষ্ঠান। বেসিক স্পেশালাইজ একটা ব্যাংক ছিল যেটা একটা বিশেষ উদ্দেশ্য গঠন করা হয়েছিল। এটা কিন্তু ব্যাংক হিসেবে সরকারের আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত না।

এদিকে বেসরকারি সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। বুধবার (১৭ এপ্রিল) ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বেসিক ব্যাংকের একজন পরিচালক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সভায় উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, একীভূত হওয়ার বিষয়ে বেসিক ব্যাংকের পরিচালকরা একমত হয়েছেন। তবে সেটি অবশ্যই কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে হতে হবে। সিটি কিংবা যে কোনো বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না হওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক বেসরকারি হয়ে যাচ্ছে এমন খবর প্রচার হওয়ার প্রেক্ষাপটে বড় ধরণের সংকট তৈরি হতে পারে এ বিষয়টি সরকারকে জানানো হবে।

টিএই/এমএইচএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর