রোববার, ১৪ জুলাই, ২০২৪, ঢাকা

তিন মাসের ব্যবধানে দুর্ঘটনায় দুই স্বামীকে হারালেন শারমিন

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৩, ১২:০২ এএম

শেয়ার করুন:

তিন মাসের ব্যবধানে দুর্ঘটনায় দুই স্বামীকে হারালেন শারমিন

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নাজিরবাজারে কুতুবপুর এলাকায় ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের একজন দুলাল মিয়া। তিন মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়া ভাবির জীবনে আশার প্রদীপ হয়ে এসেছিলেন তিনি। অসহায় ভাবির পাশে দাঁড়াতে তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের তিন মাস পর ভাইয়ের মতো দুলালও মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তিন মাসের ব্যবধানে দুই স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় শারমিন।

বুধবার (৭ জুন) ভোরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কুতুবপুর এলাকায় বালুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবহনকারী পিকআপের সংঘর্ষে প্রাণ হারানো ১৪ জনের মধ্যে দুলালও ছিলেন। দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া অধিকাংশের বাড়ি সুনামগঞ্জে। তারা সবাই নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।


বিজ্ঞাপন


২৬ বছর বয়সী দুলাল মিয়া সুনামগঞ্জের শা‌ন্তিগঞ্জ উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে। তার বড় ভাই হেলাল আহমদ প্রায় তিন মাস আগে একটি দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি স্ত্রী শারমিন বেগম (২৫) ও দুই সন্তানকে রেখে গেছেন।

জানা যায়, হেলাল আহমদকে হারিয়ে ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন শারমিন। তার এই অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে পরিবারের সিদ্ধান্তেই মৃত হেলালের ছোট ভাই দুলালের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। এরপর শারমিন ফের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন দুলালকে নিয়ে। কিন্তু মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপ নিলো। প্রথম স্বামীর মতো সড়কেই ঝরে গেল শারমিনের দ্বিতীয় স্বামী দুলাল মিয়ার জীবনপ্রদীপ।

হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিহত দুলাল মিয়ার ফুপাতো ভাই মো. শাহীন শাহীন জানান, দুলালের বড় ভাই হেলাল আহমদ প্রায় তিন মাস আগে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। মাসখানেক আগে পরিবারের লোকজন হেলালের স্ত্রী শারমিন বেগমকে (২৫) বিয়ে দেন দুলাল মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের দুই সপ্তাহ পর কাজের জন্য সিলেটে আসেন দুলাল। থাকতেন আম্বরখানা সাপ্লাই এলাকার ভাড়া বাসায়। দুলালের মৃত্যুতে শারমিন বেগম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বিকেলে দুলালের লাশবহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স এলাকায় ঢুকলে চারিদিকে কান্নার রোল পড়ে যায়। লাশ দেখতে ছুটে আসেন এলাকাবাসী৷ সবার চোখ বেয়ে ঝরছিল পানি। তার স্ত্রী ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে ওই এলাকার আকাশ।


বিজ্ঞাপন


উল্লেখ্য, বুধবার সকালে সিলেটের দ‌ক্ষিণ সুরমার না‌জিরবাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হন।  নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাবনগাঁও গ্রামের মৃত ওয়াহাব মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া, একই উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া, তলেরবন্দ গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর ছেলে আউলাদ তালুকদার, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আলীনগর গ্রামের মৃত শিশু মিয়ার ছেলে হারিস মিয়া, একই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে সৌরভ মিয়া, একই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া, মৃত সজিব আলীর ছেলে রশিদ মিয়া, মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে সায়েদ নুর, সাগর আহমদ, উপজেলার মধুপুর গ্রামের মৃত সোনাই মিয়ার ছেলে সাধু মিয়া, কাইমা গ্রামের মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে একলিম মিয়া এবং গছিয়া গ্রামের মৃত বারিক উল্লাহর ছেলে সিজিল মিয়া।

প্রতিনিধি/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর