ঈদকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল সাভারে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। সকাল থেকে রাত ১১-১২টা পর্যন্ত শপিংমলগুলোতে চলে কেনাকাটার ধুম। পোশাক, জুতার দোকানসহ প্রসাধনীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তসহ সকল শ্রেণির মানুষই আসছেন মার্কেটে। ঈদের আমেজে ধুম পড়েছে কেনাকাটার। আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না কারও মাঝে।
বিগত দুই, তিন বছর ঈদের ব্যাবসা তেমন লাভজনক না করতে হলেও এবছর বিক্রি ভালো হওয়ায় লাভবান হওয়ার কথা জানাচ্ছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, সাভারের জনপ্রিয় শপিংমল সাভার সিটি সেন্টার, রাজ্জাক প্লাজা, সাভার নিউমার্কেট ও সেনা শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এসব মার্কেটে দেশির পাশাপাশি বিদেশি পোশাকেরও বেশ চাহিদা রয়েছে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ সব ধরনের পোশাকেরই দাম এবার অনেকটাই বেশি।
শারমীন আক্তার সুলতানা ও মো. মাইদুর রহমান দম্পতি জানান, তারা এসেছেন ছেলেমেয়েদের শপিং করতে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেমন, জামা-কাপড়ের অবস্থাও তেমন। দিন দিন সব ক্রয়ক্ষমতার বাইরে যাচ্ছে। যে বেতন পাই তা দিয়ে চলছে না। সামনের দিনগুলোতে ছেলেমেয়েদের শখ আহ্লাদ পূরণ করা আর সম্ভব হবে না।
বিজ্ঞাপন

সেনা শপিং কমপ্লেক্সের বাচ্চাদের কাপড় ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন বলেন, গত দুই, তিন বছর করোনার কারণে আমরা খুব লস দিয়েছি। এবার রমজানে মোটামুটি ভালো বেচাকেনা হয়েছে। বিশেষ করে শেষের সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। দামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার আমাদেরও অনেক বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়েছে। তাই দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
এদিকে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততা বেড়েছে জুতা এবং কসমেটিকস ব্যবসায়ীদের। সাভার নিউ মার্কেটের জুতা, প্রসাধনী ও গহনা বিক্রির দোকানীরা জানান, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা, এমিটেশন জাতীয় গহনা, টিপ, নেইল পলিশ, মেকাপ, চুড়িসহ প্রসাধনী কিনতে নারী ও শিশু ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত ক্রেতা সমাগমের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
অন্যদিকে সাভারের সস্তার মার্কেট হিসেবে পরিচিত চৌরঙ্গী মার্কেট, অন্ধ মার্কেটের মত অন্যান্য হকার্স মার্কেট গুলোতেও জমে উঠেছে ভীড়। এসব মার্কেটেও উন্নতমানের থাই, চাইনিজ, ভারতীয় বা দেশি কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এসব মার্কেটে ভিড় জমাচ্ছেন ধনী-গরীব নির্বিশেষে।
এদিকে ঈদে মানুষ যেন নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন সে জন্য শহরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সাভার থানা পুলিশ। এবিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ঈদ শপিংয়ে আসা ক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমাদের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন।
প্রতিনিধি/এইচই

