সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ঢাকা

বগুড়া থেকে প্রথম তরমুজ গেল মালয়েশিয়ায়

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৩, ০৬:০১ এএম

শেয়ার করুন:

বগুড়া থেকে প্রথম তরমুজ গেল মালয়েশিয়ায়
ছবি : ঢাকা মেইল

বগুড়ার শিবগঞ্জের তরমুজ প্রথমবারের মতো বিদেশে রফতানি হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মালয়েশিয়ায় এক কনটেইনার তরমুজ রফতানি হলো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে করে বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) চালানটি জাহাজে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৭ মার্চ) মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি।

শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান এলাকার তরমুজচাষি মুকুল ও জাকির ফারাজির উৎপাদিত এসব তরমুজ মালয়েশিয়ায় রফতানি করছে চট্টগ্রামের হালিশহরের সাত্তার ইন্টারন্যাশনাল নামের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। 


বিজ্ঞাপন


প্রথম চালানে তরমুজ রফতানি হয়েছে ১৩ হাজার ৩২০ কেজি। এতে রফতানি আয় হবে প্রায় চার হাজার ডলার।

জানতে চাইলে সাত্তার ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার আবদুল কাইয়ূম বলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জের কৃষকদের থেকে এই তরমুজ সংগ্রহ করে রপ্তানি করেছি। তিনি বলেন, দেশে তরমুজের ফলন বাড়ছে। অপ্রচলিত এই পণ্যের রপ্তানির বাজার ধরা গেলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।

শিবগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রফতানিযোগ্য মানসম্পন্ন তরমুজ চাষে কৃষি অফিসের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তরমুজগুলো উৎপাদন করা হয়। উপজেলার মহাস্থান গ্রামের কৃষক জাকির ফরাজি ও মুকুল মিয়ার খেতে উৎপাদন হওয়া মোট ১৩ হাজার ৩২০ কেজি তরমুজ রফতানি করা হচ্ছে মালয়েশিয়ায়। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চালানটি মালয়েশিয়ায় পৌঁছাবে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে দেশে ধারাবাহিকভাবে তরমুজের ফলন বাড়ছে। ২০২১–২২ অর্থবছরে তরমুজের উৎপাদন হয় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টন। এর আগে ২০২০–২১ অর্থবছরে উৎপাদিত হয়েছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার টন। ২০১৯–২০ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল আড়াই লাখ টন।


বিজ্ঞাপন


রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর গত আট বছরের তথ্যে দেখা যায়, এ সময় দেশ থেকে কোনো তরমুজ রফতানি হয়নি।

বাজার গবেষণাকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, বিশ্বে তরমুজের বাজার প্রায় ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের। ২০২১ সালে বিশ্বে ২১৬ কোটি ডলারের তরমুজ রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৭ লাখ টন। শীর্ষ রপ্তানিকারকের তালিকায় রয়েছে স্পেন ও মরক্কো। আমদানিকারকের তালিকায় রয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম জানান, তরমুজ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে তরমুজ উৎপাদন হয় দেশে। মালয়েশিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরমুজের চাহিদা ব্যাপক। দেশে উৎপাদিত তরমুজ বিদেশে রফতানি করা গেলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মুজাহিদ সরকার বলেন, বিদেশে রফতানি করার জন্য উপজেলার কয়েকজন কৃষক তরমুজ চাষ করেছেন, যাদের কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রথম পর্যায়ে দুজন কৃষকের প্রায় ১৩ হাজার কেজি তরমুজ মালয়েশিয়ায় রফতানি করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এইচই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর