লক্ষ্মীপুরে তিন দিন ধরে যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে চেয়ারম্যানসহ শ্রমিকরা। এতে লক্ষ্মীপুর-ফেনী রুটের যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে তার সহকর্মীরা এই আন্দোলনে নামেন। জানমালের নিরাপত্তা না পেলে বাস চালু করবে না শ্রমিকরা। এজন্য প্রশাসন ও চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের জন্য বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন তারা।
এদিকে পরিবহনটির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম রকিকে চাঁদা না দেওয়ায় শ্রমিককে মারধর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে রকি বলছেন, ভুয়া চেয়ারম্যান সেজে রশিদের মাধ্যমে ও মৌখিকভাবে বাসপ্রতি চাঁদা আদায় করে আবুল কাশেম মিলনের লোকজন। এটি বন্ধ করতে বললে তার (রকি) বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়।
পরিবহন শ্রমিক মো. বাহার, মানিক ও শিবু বর্ধনসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাড়িতে যাত্রী উঠালেই তাদের (শ্রমিক) মারধরসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জকসিন বাজার থেকে কয়েকজন যুবক যমুনা পরিবহনের একটি গাড়িতে উঠে। চন্দ্রগঞ্জ বাজারে গিয়ে বাস চালকের সহযোগী খোরশেদকে তারা মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রমিকরা লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনালে মানববন্ধন করে। বাস বন্ধ রেখে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি জানিয়েছে। সড়কে তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া হলেই তারা বাস চালু করবে। ২ দিন বাস বন্ধ রয়েছে। একটি বাস মালিকও তাদের খোঁজ নেয়নি। বাস কোম্পানির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন সার্বক্ষণিক তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর চৌমুহনীতেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হামলা ও চাঁদাবাজদের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ঘণ্টাব্যাপী। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখা হয়নি।
শ্রমিক মানিক জানান, লক্ষ্মীপুর-ফেনী রুটে ৫২টি বাস রয়েছে। দিনব্যাপী প্রায় ১৭০০ যাত্রী আসা যাওয়া করে। এখন বাস বন্ধ থাকায় ওই যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরিবহন শ্রমিক বাহার বলেন, রাস্তায় বাস নামিয়ে আমরা মার খেতে হলে নামবো না। আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই আমরা বাস চালু করবো। ২ দিন বাস বন্ধ, কিন্তু কোনো বাস মালিক আমাদের খোঁজ নেয়নি। বাস মালিকরা এসে বললেও বাস চালু করা হবে না। আমাদের দাবির সঙ্গে চেয়ারম্যান একমত রয়েছেন। দাবি পূরণ হলেই আমরা বাস চালু করবো।
যমুনা হাই ডিলাক্সের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বলেন, লক্ষ্মীপুর-ফেনী রুটে যমুনার ৫২টি বাস রয়েছে। এরমধ্যে ইসমাইল একটিমাত্র বাসের মালিক। রোড পারমিটের জন্য আবেদন করলে সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাসের স্বত্ত্বাধিকারী হিসেবে তার নাম উল্লেখ করে। আমার ১৬টি বাস রয়েছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও আমিই আছি।
আবুল কাশেম মিলন আরও বলেন, ছাত্রলীগ নেতা রকি ও তার ভাই রাকিব পাটওয়ারী আমার কাছে মাসিক ২ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনালে যমুনার কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছে। লক্ষ্মীপুর-থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত ৭টি কাউন্টারের সামনে লোক দিয়ে রেখেছে, যেন টিকিট বিক্রি ও বাসে যাত্রী উঠাতে না পারে। মঙ্গলবার দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ বাজার এলাকায় বাসে ঢুকে চালকের সহযোগী খোরশেদকে ৮ থেকে ১০ জন যুবক মারধর করে। এতে চালক ও শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাস বন্ধ রেখেছে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রকি বলেন, আবুল কাশেম মিলন যমুনা হাই ডিলাক্সের চেয়ারম্যান নয়। চেয়ারম্যান হচ্ছেন মো. ইসমাইল। ভুয়া চেয়ারম্যান সেজে মিলন আমি ও আমার ভাইয়ের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। আমি পরিবহনের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। আমার বাবা-চাচাদের তিনটি যমুনা বাস রয়েছে। ওই বাস থেকে প্রতিদিন ৬০০ করে ১৮০০ টাকা নেয় যমুনা হাইডিলাক্স কর্তৃপক্ষ। এই টাকা নিতে নিষেধ করায় আমাদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।
যমুনা কর্তৃপক্ষ চাঁদাবাজি করছে, এ ঘটনায় বুধবার আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। এর আগে মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি নুরনবী চৌধুরী বলেন, শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় বাস বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। দ্রুত এ ঘটনায় সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন ঢাকা মেইলকে জানান, ঘটনাটি বাস মালিকদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। উভয়পক্ষকে বসে সমস্যা সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে।
প্রতিনিধি/এইউ

