শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪, ঢাকা

ইয়াবা গডমাদার শিপ্রা, ৩২ বছরে অর্ধশত মামলার আসামি

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫৫ এএম

শেয়ার করুন:

ইয়াবা গডমাদার শিপ্রা, ৩২ বছরে অর্ধশত মামলার আসামি

মাদক ব্যবসায় অর্ধশত মামলার আসামি শিপ্রা বেগম শতবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন। ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধা নিয়ন্ত্রণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলার মাদক সিন্ডিকেট।

তিনি জেলার শীর্ষ মাদকব্যবসায়ীদের প্রধান। যাকে সবাই চিনে ‘মাদকসম্রাজ্ঞী শিপ্রা’ নামে। যার নামে মামলা রয়েছে অন্তত ৫৩টি। সবগুলোই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা।


বিজ্ঞাপন


মাদক ব্যবসায়ী শিপ্রা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি এলাকার বাবুল হোসেনের স্ত্রী।

জানা যায়, শিপ্রা বেগম মাদক ব্যবসা করেই অর্ধেক জীবন পার করেছেন। এই মাদক ব্যবসায় তিনি একা নন, স্বামী-সন্তানও বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে শিপ্রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। জেল খাটেন। আবার ছাড়াও পান। কারামুক্ত হয়ে বেরিয়ে এসে আবার শুরু করেন মাদক ব্যবসা।

মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত শিপ্রার স্বামী বাবুল হোসেন, ছেলে শুকুর আলী, ভাগ্নে রুনা আলীর নামেও রয়েছে একাধিক মাদক মামলা।

জানা যায়, সবশেষ মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শিপ্রা বেগমকে আবারও গ্রেফতার করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা। এসময় শিপ্রার কাছ থেকে ১ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।


বিজ্ঞাপন


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পর্যবেক্ষণ বলে, এই শিপ্রা একসময় গাঁজা ব্যবসা করত। আস্তে আস্তে তিনি মাদক ব্যবসার ধরণ বদলিয়েছেন। এখন তিনি ইয়াবা ও নানা ধরনের সাথে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ইয়াবার বড় চালান নিয়ে এসে তা শহর বা জেলায় ছোট ছোট চালান ছড়িয়ে দেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। জেলার সব জায়গাতে ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন শিপ্রা। যা শহরে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ইয়াবা গডমাদার’ নামে। পুরো পরিবারই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

শিপ্রার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। সেই মামলা পরিচালনা করেন মাদক ব্যবসার অর্থ থেকেই। তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে সময় আটক করা হয়, পাঠানো হয় কারাগারে। জামিন পেয়ে বেরিয়ে এসে আবার শুরু করে ব্যবসা। এভাবে অন্তত একশ বারের বেশি আটক করা হয়েছে তাকে।

বুজরুকগড়গড়ি এলাকার স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, শিপ্রা একজন মাদক ব্যবসায়ী। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক নিয়ে গ্রেফতার হয় শিপ্রা। কিন্তু কয়েকদিন পরই আবার ছাড়া পেয়ে শুরু করেন মাদক ব্যবসা। গ্রেফতার হওয়ার অল্প কদিন পরেই কেমনে ছাড়া পায় তা বোধগম্য নয়। অন্যরা এভাবে ছাড়া পেয়ে মাদকব্যবসা করার সাহস পায় না। কিন্তু সে পুরো এলাকাটি মাদকের হাটে পরিণত করেছে।

পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিপ্রা ৩২ বছর ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রথমে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান করতেন। তিনি আস্তে আস্তে বড় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে হয়ে পড়েন। এই শিপ্রার প্রথম মাদক মামলা হয় ১৯৯১ সালে। এরপর আস্তে আস্তে গত ৩২ বছরে ৫৩টি মামলা হয় তার নামে। গ্রেফতার হয়েছেন শতাধিকবার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও হয়েছে চার মামলায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান বলেন, শিপ্রার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অনেক বার হাতেনাতে আটক করা হয়। ঘরের ভেতরে রয়েছে গোপন দরজা। সে কৌশলে পালিয়ে যেতে পারে। একবার ঘরের ভেতরে ঢুকলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি অত্যন্ত চতুর। জেলায় এত মামলার আসামি এই একজনই। আর অন্য কোনো মাদকব্যবসায়ীর নামে এত মামলা নেই। মাদকব্যবসায়ীদের শীর্ষে শিপ্রা।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শরীয়তউল্লাহ বলেন, শিপ্রা একসময় গাঁজা বিক্রি করতে করতে বড় গাঁজা ব্যবসায়ী নামে পরিচয় পায়। এখন সে বড় ধরনের ইয়াবার ব্যবসায়ী। ইয়াবার বড় বড় চালান আনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। তার সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, জেলার সব প্রান্তে ইয়াবা পৌঁছে দেন শিপ্রা। এতে তার নিয়ন্ত্রণে থাকে জেলার অন্য ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। গ্রেফতরা করা হয় তাকে। ছাড়া পেয়ে ফের শুরু করেন মাদক ব্যবসা।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর