৬.৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে মৌলভীবাজার

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

কয়েকদিন ধরে মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে চলছে শীতের দাপট। প্রচণ্ড শীত, ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিম বাতাস থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ওই এলাকার মানুষের জনজীবন।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যেখানে ছিল ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগেরদিন বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে মৌলভীবাজারে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ফলে জেলা জুড়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এ পরিস্থিতি কয়েকদিন থাকতে পারে। সিলেট বিভাগের মাঝে সবচেয়ে বেশি শীত শ্রীমঙ্গলেই রেকর্ড করা হয়। প্রকৃতি ও পরিবেশগত কারণে এখানকার ঠান্ডা সিলেটের অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি বলে তিনি জানান।

এদিকে, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওর বেষ্টিত এলাকার খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের অধিকাংশ মানুষের বসবাস। অন্যদিকে, চা বাগান অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিকদের শীত এলেই তাদের কষ্ট বাড়ে। শীতের কারণে সময়মতো কাজে যোগ দিতে পারছেন না শ্রমজীবী মানুষ। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন চা শ্রমিকেরা, বোরো চাষি, ছিন্নমূল ও দিনমজুররা।

রাজনগর এলাকার দিনমজুর খালিকুজ্জামান বলেন, কাজ পাবো সেই আশায় তীব্র শীতের মধ্যেই ভোর বেলায় শহরের আসতে হয়। কখনও কাজ পাই, কোনদিন কাজ জুটেনা শীতের কারণে। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না।

পৌর শহরে কথা রিকশাচালক জমির মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে। খুব প্রয়োজনীয় কাজ না থাকলে কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। এতে আমাদের আয় রোজগার কমে গেছে।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুদ্দিন আহমদ জানান, শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলায় চারা বৃদ্ধিতে বিলম্ব হচ্ছে। কৃষকরা তীব্র শীতের কারণে মাঠে যেতে পারছেন না। শীত ও ঘন কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে ধানে চিটা হতে পারে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, শীতজনিত রোগে প্রতিদিন জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে শিশু ও বয়স্কদের ভর্তির সংখ্যা অনেক বেশি।

টিবি