মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ঢাকা

গভীর নলকূপে বেড়া দিয়ে সেচ বন্ধ, অনিশ্চিত বোরো আবাদ

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:১৭ এএম

শেয়ার করুন:

গভীর নলকূপে বেড়া দিয়ে সেচ বন্ধ, অনিশ্চিত বোরো আবাদ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একটি গভীর নলকূপের চারদিকে বেড়া দিয়ে সেচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নলকূপটির অপারেটর আব্দুল সালাম আকন্দের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জেরে বন্ধ করেছে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম ডন নামের এক ব্যক্তি। সৃষ্ট এই জটিলতার কারণে চলতি মৌসুমে এই নলকূপের আওতায় প্রায় ১৩০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদে অনিশ্চিয়তা নিয়ে ভুগছেন শতাধিক কৃষক।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় দেখা যায়, গভীর নলকূপটির চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করার চিত্র। এসময় বেশ কিছু কৃষক চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন।

জানা যায়, কৃষকদের আত্ননির্ভশীলের লক্ষ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্র্তপক্ষ গোপালপুর মৌজাস্থ সরকারি সম্পত্তিতে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে। এতে অপারেটর হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয় গোপালপুর গ্রামের মৃত তছির উদ্দিন আকন্দের ছেলে আব্দুল সালাম আকন্দ। এরপর কৃষকদের ফসল ফলাতে দীর্ঘ বছর ধরে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে এই নলকূপের সেচ নিয়ে শতাধিক কৃষক অধিক ধান ঘরে তুলে লাভবান হচ্ছেন। এদিকে নলকুপটি ঘেঁষে একই গ্রামের মৃত খেতাব উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম ডনের জমি রয়েছে। এরই মধ্যে সালাম আকন্দের সঙ্গে শত্রুতার জেরে গভীর নলকূপটির চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয় শহিদুল। এ কারণে আটকে গেছে সেচ কার্যক্রম। ফলে বিপাকে পড়েছে অপারেটর সালামসহ শতাধিক কৃষক। ইতোমধ্যে বোরো আবাদের জন্য কৃষকরা প্রায় ১৩০ বিঘা জমি প্রস্তুত করলেও হঠাৎ সেচ কার্যক্রম বন্ধ হওয়াতে থমকে গেছে চারা রোপণের কাজ। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা।

স্থানীয় কৃষক মোজাহার মিয়া, আবুল হোসেন ও আশরাফ আলী জানান, ওই নলুকূপটি স্থাপনের পর থেকে এখানকার শত শত কৃষক তাদের বোরো জমিতে সেচ দিয়ে অধিক ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন। এতে করে অনেকটাই লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এ বছরেও বোরো আবাদের জন্য জমি প্রস্তুতসহ চারা উৎপাদন করা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে শহিদুল ইসলাম ডন নলকূপের চারপাশে বেড়া দিয়ে সেচ কার্যক্রম জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বোরো আবাদ করতে না পারায় দুশ্চিন্তা পড়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম ডন বলেন, স্থাপিত ওই গভীর নলকূপের জায়গাসহ পাশের জমি আমার। তাই আমার জায়গায় আমি ঘিরা দিয়েছি। এতে করে সেচ কার্যক্রম চলবে কিনা সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।


বিজ্ঞাপন


গভীর নলকূপটির অপারেটর আব্দুল সালাম আকন্দ বলেন, নলকুপের ২ শতক জায়গা সরকারের। কৃষকদের স্বার্থে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। আর বেশ কিছুদিন ধরে শহিদুল ইসলাম ডনের সঙ্গে আমার পারিবারিক দ্বন্দ চলে আসছে। এরই জেরে নলকূপটির চারপাশে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে কৃষকের জমিতে সেচ দিতে পারছি না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠছে কৃষকরা।

এ ব্যাপারে সাদুল্লাপুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা আবুল বাশার জানান, নলকূপটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর