বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

রামুর শীর্ষ ডাকাত শাহীন সহযোগীসহ গ্রেফতার 

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:৪৫ এএম

শেয়ার করুন:

রামুর শীর্ষ ডাকাত শাহীন সহযোগীসহ গ্রেফতার 

কক্সবাজারের রামু আন্তঃউপজেলার শীর্ষ ডাকাত শাহিনুর রহমান প্রকাশ ডাকাত শাহীন ও তার  সহযোগী তারেক জিয়াকে আটক করেছে র‍্যাব-১৫ এর একটি টিম। 

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বান্দরবান সদর থানার মেঘলা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে র‍্যাব-১৫ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।


বিজ্ঞাপন


ডাকাত শাহীন রামু গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা এলাকার মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে। শাহীনের বিরুদ্ধে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ৫টি ডাকাতি, ৩ টি অস্ত্র, ১ টি মাদক, ৪ টি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে এবং সে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

সংবাদ সম্মেলন র‍্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, ডাকাত শাহীন রামু পূর্বাঞ্চলে এক আতংকের নাম। সর্বশেষ তার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিরুল আলম।

র‌্যাব জানায়, এর আগেও ডাকাত শাহীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিল। তার কাছে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির ৬ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ জিম্মি। তাকে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকায় সাধারণ মানুষ একটি মানববন্ধনও করেছিল।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে র‌্যাব আরও জানায়, তার দলের সদস্যরা রাতের বেলা রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দলবলসহ সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করত। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্য মনিরুল আলমকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন


ডাকাত শাহীনের নানা অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে গত এক বছর ধরে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে বহু সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে শাহীকে ধরতে কাজ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে রামু গর্জনিয়া শিবাতলী পাহাড়ি এলাকার গোপন আস্তানা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন আন্তঃউপজেলার শীর্ষ ডাকাত শাহিন উর রহমান প্রকাশ ডাকাত শাহিন। সে সময় প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও জড়িয়ে পড়েন অপরাধে। প্রতিরাতে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করেন তিনি। তার ইচ্ছার ওপর চলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির প্রায় ৬ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষ মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি, শাহীন ডাকাত নিজেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবেও জাহির করে থাকেন। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে অনেককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন বলেও দাবি তাদের।

শাহীনের হামলায় আহত ইউপি সদস্য মনিরুল আলম বলেন, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ , চাঁদাবাজি, দখলবাজি, বাগান দখল এবং রাতে মানুষের বাড়ি থেকে গৃহপালিত পশু নিয়ে যায় শাহীন ডাকাতের সদস্যরা। ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় না। আমি তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলেই আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে। আমি ডাকাত শাহীনের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

শাহীনের নির্যাতনের শিকার হেলাল উদ্দিন বলেন, রাতে অস্ত্রের মুখে আমাকে পূর্ববোমাংখীল এলাকার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তার টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। একদিন পরে লাখ টাকার বিনিময়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। এভাবে অসংখ্য নারী, পুরুষ ও শিশু তার নানা অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শাহীন ও তার সহযোগী তারেক জিয়া গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির জনবহুল স্টেশন এবং ঘরে ঘরে চলছে উৎসব। চলছে মিষ্টি বিতরণ। এলাকার ভুক্তভোগীদের দাবী, শাহীনের ২০/২৫ জন সশস্ত্র সহযোগী রামু ও নাইক্ষ্যংছড়িতে হত্যা, ঘুম, অপহরণ, গরু চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরও গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর