শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জয়পুরহাটে তীব্র শীতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা 

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

জয়পুরহাটে তীব্র শীতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা 

শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে উত্তরের জনপদ জয়পুরহাটে। সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা কমে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।  ফলে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে এ অঞ্চলে। কুয়াশার কারণে দিনেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।গত ৩ থেকে ৪ দিন যাবত এ অঞ্চলে সূর্যের দেখা মিললেও গরমের তীব্রতা একেবারেই নেই। সন্ধ্যার পর থেকে বইছে ঠাণ্ডা বাতাস, মাঝারি কুয়াশায় ঢেকে আছে জয়পুরহাটের শহর-গ্রাম। সকাল ৮টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

কনকনে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা ভিড় জমাচ্ছেন ফুটপাতের পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে। 


বিজ্ঞাপন


সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাথের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে শীতের পোশাকের জমজমাট বাজার। পৌরএলাকার রেলগেট হকার্স মার্কেটে পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তিল পরিমাণ জায়গাও নেই ফুটপাতে। এসব দোকানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ দেখা গেছে। আকার ও মান ভেদে প্রতিটি পুরাতন সোয়েটার, জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ৫০০টাকায়। টুপি ৫০টাকা, পা মোজা ১৫ থেকে ২০ টাকা জোড়া ও মাফলার ১০০ টাকায়। এখানে পুরনো চাদর, কম্বলও রয়েছে।  এদিকে রেললাইনের ধারে জটলাভাবে দোকানের পসরা বসায় যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, এবার বেবি বেল ৭ হাজার থেকে শুরু করে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত মহাজনদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে। অথচ একই মাল গত বছর ছিল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। একইভাবে জ্যাকেটের বেল ১১ হাজার থেকে ১৮ হাজার, সোয়েটার ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার এবং কম্বল ১২ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। প্রতি বেলে গত বছরের তুলনায় গড়ে দেড় হাজার টাকা বেশি। বেল ভাঙার পর কাপড়গুলোর একটা গড় মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রি করা হয়। খরচ বাদে যা থাকে তাতে মোটামুটি ভালোই লাভ হয়। 

পুরনো গরম কাপড় বিক্রেতা বাবু  বলেন, এই সপ্তাহে শীত বেড়ে যাওয়ায় মাফলার, সোয়েটার ও জ্যাকেট বিক্রি বেড়েছে। পা মোজা, টুপিও বিক্রি হচ্ছে বেশ। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও আসছেন দোকানে। বিকালের দিকে ভিড় হচ্ছে বেশি। 

আরেকজন বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন,কিছুদিন আগে আমাদের বেচাঁকেনা কম ছিলো।গত এক সপ্তাহ থেকে শীত বেশি হওয়ায়,এখন প্রচুর কাপড় বিক্রি হচ্ছে। এই তীব্র শীতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে  আমাদের পুরাতন কাপড়ের দোকানদাররা।


বিজ্ঞাপন


জয়পুরহাট পৌরশহরের স্কুল শিক্ষক জাহিদ মন্ডল নামে এক ক্রেতা বলেন, শুরুতে শীতের ভাব বুঝে মনে হচ্ছিল এ বছর তেমন শীত পড়বে না। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে যে ঠাণ্ডা পড়া শুরু হয়েছে তাতে  অল্প কাপড়েও কাজ হচ্ছে না। তাই পরিবারের সবার জন্যই কাপড় কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের টুপি, মাফলার, হাত ও পা মোজার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে বেশি। তিনি বলেন, দোকান থেকে ফুটপাথে পুরাতন অনেক ধরনের কাপড় পাওয়া যায়। তুলনামূলক কম দামে পছন্দ করেই কাপড় কিনতে পারি। কিন্তু গত বছরের চেয়ে এ বছর কাপড়ের দাম বেশ বেশি মনে হচ্ছে।

কালাই উপজেলা থেকে শীতের পোশাক কিনতে আসা বৃথী রাণী জানান,চাহিদা বেশি দেখে দোকানিরা কাপড়ের দাম বেশি ধরছে। গত বছর ১০০ টাকায় যে কাপড় কিনেছি এ বছর তা বিক্রি করা হচ্ছে ২০০ টাকা।

অপরদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের দুর্যোগ, ত্রাণও পুনর্বাসন  বিভাগ থেকে ১৮ হাজার ৫০০ শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে  বিতরণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সালেহীন তানভীর গাজী।

জেলা প্রশাসক বলেন, অন্যন্য জেলার মত জয়পুরহাটেও প্রচুর ঠান্ডা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জেলার সকল উপজেলায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।

প্রতিনিধি/একেবি 

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর