মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

সোনাগাজীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হত্যার রহস্য উম্মোচন

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

সোনাগাজীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হত্যার রহস্য উম্মোচন

ফেনীর সোনাগাজীতে বোমা ফাটিয়ে স্বর্ণ দোকান ডাকাতি ও দোকানী অর্জুন চন্দ্র ভাদুড়ী (৫৭) হত্যার রহস্য অবশেষে বেরিয়ে আসছে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত দু’জনকে আটক করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।


বিজ্ঞাপন


আটককৃতরা হলো- মো. রাকিব (২০) ও মো. আয়নাল মাল (৩২)। এ সময় ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেলও জব্দ করেছে।

র‌্যাব সূত্র জানা যায়, সোনাগাজী থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৩০ ডিসেম্বর রাতে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া টিকিকাটা বেসকী গ্রামের মো. আলতাফ হাওলাদারের ছেলে মো. জাফর হাওলাদার (২৮) কে শনাক্ত করে। ডাকাতিকালে ব্যবহৃত কালো মোটর সাইকেলসহ তাকে গ্রেফতার করে। 

জাফর হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য ডাকাতদের গ্রেফতারের জন্য সোনগাজী থানা পুলিশ র‌্যাবের সহায়তা চায়।

৬ জানুয়ারি রাত ৩টায় র‌্যাব-৭ এবং র‌্যাব-৮ এর একটি যৌথ দল পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার চর দুয়ানী বাজার এলাকা থেকে মো. ইউসুফের ছেলে মো. রাকিব (২০) ও মৃত আব্দুল কুদ্দুস মালের ছেলে মো. আয়নাল মাল (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকালে মো. রাকিব এর নিকট থেকে ডাকাতিকালে ব্যবহৃত লাল রংয়ের পালসার মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়।


বিজ্ঞাপন


র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার জানান, গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতির ও খুনের সাথে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি খালেদ হোসেন দাইয়ান জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত: ৩০ অক্টোবর রবিবার দুপুরে উপজেলার জমাদার বাজারে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্জুন জুয়েলার্স দোকানের মালিক অর্জুন চন্দ্র ভাদুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দোকানের শোকেস ভেঙে ও লকার খুলে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট হয়।

মোটরসাইকেল যোগে আসা চারজনের একদল সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাতদের ছোড়া বোমার আঘাতে কয়েকজন পথচারী আহত হন। দুটি মোটরসাইকেল করে আসা ৪জন ডাকাতের দুইজন হেলমেট পরা ও দুজন মুখোশ পরা অবস্থায় ছিল। তাদের বয়স আনুমানিক ২০-৩৫ বছর হবে। ডাকাতের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অর্জুন ভাদুড়িকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে ওইদিন রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে চট্টগ্রামের অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ১১দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অর্জুন ভাদুড়ি মারা যান। ঘটনার দুদিন পর আহত অর্জুন ভাদুড়ির জামাতা রনি বনিক বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ সিরাজুল ইসলাম (৪৮), মো. মোস্তফা (৫০) ও বেলাল হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করে। তারা উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের চর সাহাভিকারী এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু রিমান্ডে নিয়েও তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য উপাত্ত বের করে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ডাকাতদের ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সন্ধান চেয়েছেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর