রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত সরিষা ফুলের মাঠ, স্বপ্নে বিভোর কৃষক

ফরমান শেখ
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত সরিষা ফুলের মাঠ, স্বপ্নে বিভোর কৃষক
ছবি: ঢাকা মেইল

সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে টাঙ্গাইলের দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। সরিষার হলুদ ফুলের রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন ফসলের মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের স্বপ্নে বিভোর কৃষক।  তাদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছে আনন্দের হাসি।

এদিকে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক সরিষা চাষ হওয়াতে ভোজ্যতেলের অভাব কমে আসার অপার সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্টরা।


বিজ্ঞাপন


জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে— মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর, কালিহাতী, সদর, ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবাদি ও অনাবাদি জমির আনাচে-কানাচে ও পরিত্যক্ত জমিগুলোতে গত বারের তুলনায় চলতি মৌসুমে প্রায় দ্বিগুণ হারে সরিষা চাষ করেছেন কৃষক। এসব জমিতে সরিষায় গাছে ফুল ও ফল এসেছে। হলুদ ফুলের জমির পাশে মৌ-চাষিরা মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১২ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ১২০ হেক্টর জমি। অতিরিক্ত আরও ৬ হাজার হেক্টর জমি সরিষা চাষের আওতায় আশায় জমির পরিমাণ বেড়ে ৫৮ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। সরকারিভাবে উপজেলা ও পৌরসভায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে ৩০ হাজার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সরিষার বীজসহ সার বিতরণ ও  প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরিষা চাষে বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই ও ফসলের প্রাকৃতিক দুর্যোগরোধে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রেখে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছে কৃষি অধিদপ্তর।

tangail

ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম ফালু জানান, বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে থাকে এ এলাকার জমিগুলো। তখন ধান চাষ করা যায় না। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রতিবারের মতো এবারও সরিষা চাষ করেছি। তবে, এ মৌসুমে কৃষি বিভাগ থেকে বিনামূল্যে সরিষা বীজ ও সার পাওয়ায় গতবারের চেয়ে আরও ৬ বিঘা জমিতে বেশি সরিষা চাষ করেছি। সরিষাতে এখন ফুল ফুটেছে। সরিষার ভাল ফলন দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে সরিষায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।


বিজ্ঞাপন


ঝনঝনিয়া গ্রামের সরিষা চাষি আব্দুর রহীম মিঞা জানান, এবার সরিষার ফলন ভালো দেখা যাচ্ছে। ৩ বিঘা জমিতে সরিষা লাগিয়েছি। শুধু আমাদের নয়, আশেপাশের সকল চাষিদের ফসল ভাল দেখা যাচ্ছে। তবে, হাল চাষের খরচ বৃদ্ধি ও অন্যান্য খরচ বেশি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। দাম ভাল হলে গত বারের চেয়ে লাভের অংক বেশি হতে পারে। সংশিষ্ট কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং সরিষার ভাল মূল্য পেলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষের পরিধি আগামীতে আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আহসানুল বাসার জানান, দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহতম জেলা হচ্ছে টাঙ্গাইল। ১২ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষায় লক্ষ্যমাত্রা ৫২ হাজার ১২০ হেক্টর জমি। প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় ও কৃষিমন্ত্রীর মাধ্যমে ভৈজ্যতেলের ঘাটতি পূরণে ১৫% সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও ৬ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত সরিষা চাষ করা হয়েছে। জেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় ৩০ হাজার কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবে আশা করছি।

টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর