বান্দরবানের লামা উপজেলায় রাতের আঁধারে ম্রো জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে রেলয়েন ম্রো পাড়ায় ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের ওপর অগ্নিসংযোগ ও হামলা করে দুর্বৃত্তরা।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় লামা রাবার ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন পাড়াবাসী। এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ করেছে রাবার কোম্পানি।
সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রেংয়েন ম্রো পাড়ার তিনটি ঘর আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। অপর তিনটি ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাড়ার অন্য দুটি ঘরে ভাঙচুর ও ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে ফেলা হয়। ঘরের ভেতরে চাল, রান্না করা ভাত ও শীতের কাপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। পাড়ার বাসিন্দাদের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। কোনো কোনো পরিবারের সব সদস্যকেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
![]()
রেংয়েন ম্রো কারবারি পাড়ার কারবারি (পাড়াপ্রধান) রেংয়েন ম্রো বলেন, রোববার রাতে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ করে মানুষের কান্না আর চিৎকারের আওয়াজে ঘুম ভাঙে। ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখি তিন-চারটা ঘরে আগুন জ্বলছে। তখন আমি বউ বাচ্চাকে নিয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যাই এবং ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে থাকি। তখন দুর্বৃত্তরা আমার ঘরে এসে ভাঙচুর করতে শুরু করে। তারা আমাকে খুঁজে না পেয়ে পুরো ঘর তছনছ করে চলে যায়। সেসময় তারা মোট ৩ ঘরবাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে। এবং ৩ ঘরে হামলা করে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। এছাড়া ২টি মোবাইল ফোন ও ১৮ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। বলেও জানান রেংয়েন ম্রো কারবারী। এ ঘটনায় লামা রাবার ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন

লামা রাবার কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ইফতেখার আলম মজুমদার বলেন, দুদিন আগে পাড়াবাসী সেখানে কয়েকটি ঘর তুলেছেন। সেখানে রাবার চারা লাগানোর জন্য ড্রেজিং করে ধাপ করা হয়েছিল। বিষয়টি কর্মচারীরা আমাদের জানান। তখন আমরা থানায় এ নিয়ে অভিযোগ করি। পরে শুনেছি, সেখানে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কর্মচারীরা সেখানে গিয়ে সেখানে কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর দেখতে পায়। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা সেটি করেছে তা আমরা জানতে পারিনি। তবে গ্রামবাসীর আমাদের ওপর যে অভিযোগ, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম জানান, ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য পাড়াবাসী রাবার কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে। বিষয়টা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে দোষী যেই প্রমাণিত হবে, তারা শাস্তি পাবে।
লামার ইউএনও মো. মোস্তফা জাবেদ কায়সার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের ব্যাপারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বা কোনো সিদ্ধান্ত এলে তা দেওয়া হবে। তবে আগে থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পাড়াবাসী ও রাবার কোম্পানি যার যার অবস্থানে যেন থাকে। বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে নতুন করে কোনো কিছু স্থাপনা করা যাবে না বলা হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে বিকালে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজিকে ফোন করা হলে তিনি তার রিসিভ করেননি।
টিবি

