রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

খাগড়াছড়ির মাল্টার কদর সারাদেশে

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

খাগড়াছড়ির মাল্টার কদর সারাদেশে

মাল্টা পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। পাহাড়ের মাল্টা খেতে মিষ্টি। পুষ্টিগুণে ভরপুর। তাই ক্রেতাদের ভীড় লাগে মাল্টা বাগানে ও পাহাড়ি হাঁট-বাজারে বাজারে। খাগড়াছড়ির মাল্টা মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় কদর রয়েছে সারাদেশে। একারণে অন্য ফলের বাগানের তুলনায় খাগড়াছড়িতে প্রতি বছর মাল্টার বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বারি মাল্টা-১ আকারে বড় ও মিষ্টি বেশি হওয়ায় এ জাতের মাল্টার চাষ বেশি করছেন চাষিরা। গাছে থোকায় থোকায় অনেক ফল হয়। বাগানে প্রতি কেজি মাল্টা ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করেন চাষিরা। 


বিজ্ঞাপন


মাল্টা চাষিরা জানান, আমের তুলনায় মাল্টায় লাভ ভালো। ফল বিক্রি নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয় না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বাগানে এসে দেখে কিনে নিয়ে যান। মাল্টা চাষ করে জীবিকা ভালো চলে। একটু পরিচর্যায় যে কেউ মাল্টা চাষ করতে পারেন। অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করা যায়।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে ৫২৫ হেক্টর ও উৎপাদন হচ্ছে ৩৩৫৮ মেট্রিকটন। যা গত বছর তুলনায় এ বছর উৎপাদন বেড়েছে।

সদর উপজেলার পানখাইয়াপাড়া ও বড়পাড়া এলাকার মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ভোরে পাখি ডাকার সঙ্গে সঙ্গেই বাগানের চাষিরা শ্রমিক নিয়ে গাছ থেকে পরিপক্ক ফল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আট-দশ জন শ্রমিক এক হয়ে ঝুড়ি নিয়ে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে নিদিষ্ট স্থানে রাখছেন। এভাবে বিকেল হলে ব্যবসায়ীরা বাগানে এসে চাষিদের মাল্টার দাম মিটিয়ে পিকাআপে ও ট্রাকে মাল্টা বোঝায় করে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।      


বিজ্ঞাপন


খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইপাড়া এলাকার পাহাড়ি মারমা নারী মাল্টা চাষি মানু মারমা বলেন, বাসার পাশে মাল্টা বাগান করেছি। বাগানে ৯৫টি গাছ আছে। গাছের বয়স আট বছর। সব গাছে ফল এসেছে। একটা গাছ থেকে চল্লিশ থেকে পঁঞ্চাশ কেজি ফলন পাওয়া পাবে। প্রতি কেজি ৯০ টাকা করে বিক্রি করছি। মাল্টা বিক্রি করে আমার ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও সংসার ভালোভাবে চলে যায়। এবছর বাগানের ফল বিক্রি করে দুই লাখ টাকার বেশি পাব বলে আশা করি। সামনে নতুন বাগান করার ইচ্ছা আছে।    

মাল্টা চাষি মানু মারমা বলেন, বাগানে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার যথা সময়ে করতে হয়। এটি খেয়াল রাখলেই মাল্টার চাষ করে লাভজনক হবে। স্বাবলম্বী হওয়াটা পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে।

সদরের বড়পাড়ার মাল্টা চাষি অংগ্র মারমা বলেন, খাগড়াছড়ির মাল্টার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভালো দাম পাওয়া যায় ফলে আম বাগানের পরিবর্তে মাল্টার প্রতি আগ্রহ হচ্ছি। বাজারে মাল্টা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছি। ব্যবসায়ীদের কাছে আবার পাইকারি ৯০ টাকায় বিক্রি করি।      

কৃষি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত ফল দানকারী উচ্চ ফলনশীল মাল্টা। মধ্য বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাসে চারা লাগানোর উত্তম সময়। ফাল্গুন থেকে মধ্য চৈত্র পর্যন্ত সময়ে গাছে ফুল আসে এবং কার্তিক মাসের ফল আহরণের উপযোগী হয়। ফল গোলাকার (১৫০ গ্রাম)।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মালেক বলেন, যথা সময়ে ফল সংগ্রহ না করার কারণে মিষ্টতা আসে না। মিষ্টতা না আসলে গ্রাহকরা কিনতে চাইবে না। তাই যথা সময়ে মাল্টা সংগ্রহ করতে হবে। অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে ফল সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। আবহাওয়া ও জলবায়ু পাহাড়ে মাল্টা চাষের উপযোগী। পাহাড়ে প্রতি বছর বাগান বাড়ছে। খাগড়াছড়ির মাল্টা সারাদেশে কদর রয়েছে। প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক ফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। 

খেজুরবাগান হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুজন চাকমা বলেন, বারি মাল্টা-১ খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলাতে ভালো চাষাবাদ সম্প্রাসারিত হচ্ছে। সমতলের তুলনায় পাহাড়ে চাষাবাদ বাড়ছে। পার্বত্য অঞ্চলে বেশি জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্যান্য ফলের বাগানের চাইতে মাল্টা চাষ করলে লাভ বেশি। গাছে তাড়াতাড়ি ফলন আসে। চারা লাগানোর দুই বছরের পর থেকে গাছে ফল আসে। যে কোনো জায়গায় রোপন করা যায়। গাছে লম্বা সময় পর্যন্ত ফল রাখা যায়। তাতে কৃষকও উপকৃত হয়। মাল্টা চাষিরা বিক্রি করে ভালো দামও পায়।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর