শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

২ টাকায় ৩ পিঁয়াজু: কুপির আলোয় শহিদুলের বিখ্যাত দোকান

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

২ টাকায় ৩ পিঁয়াজু: কুপির আলোয় শহিদুলের বিখ্যাত দোকান

হু হু করে বাড়ছে সব জিনিসপত্রের দাম। তেল-আটার দাম বাড়ায় হোটেল রেঁস্তোরার সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে তিনগুণ। হোটেল-রেঁস্তোরায় পেঁয়াজু মানেই সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১৫ টাকা। সেখানে ২ টাকায় ৩টি পিয়াজু বিক্রি করেন শহিদুল ইসলাম। ১৯৮৪ সাল থেকেই সীমিত লাভে এ ব্যবসা করেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর নগরীর চিড়িয়াখানা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ইসলামপুর হনুমান তলায় সড়কের পাশে এই পেঁয়াজুর ভ্রাম্যমাণ দোকান। সন্ধ্যার পর খোলা হয় দোকানটি। খোলা থাকে রাত ১২টা পর্যন্ত।


বিজ্ঞাপন


দোকানে একটা ছোট টেবিল, ছোট একটা বসার টুল, একটি চুলা, কড়াই-হাতা, পেঁয়াজুর উপকরণের বড় একটি পাতিল। পানির দুটি বোতল। এই হলো শহিদুল ইসলামের বিখ্যাত পেঁয়াজুর দোকান।

দূর থেকে দেখা যায় কুপির আলোয় শহিদুল ইসলাম একহাতে গরম তেলের কড়াইয়ে দিচ্ছেন পেঁয়াজু তৈরির মিশ্রণ। অন্য হাতে হাতা দিয়ে নাড়ছেন আধা ভাজা পেঁয়াজু। এরই মধ্যেই তিনি ক্রেতাদের কাছে পেঁয়াজু দিচ্ছেন। এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন শহিদুল ইসলাম।

দোকানে খুব ভিড় নেই। তবে একেবারে ফাঁকাও না। অন্য হোটেল-রেস্তোরাঁর মতো এটি নয়। শতকরা ৯৫ ভাগ লোকই বাড়ির জন্য কিনে নিয়ে যান। ২ টাকা থেকে ৫০ টাকার পিঁয়াজু নেন ক্রেতারা। অধিকাংশ ক্রেতাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার সময় কিনে নিয়ে যান। অন্যান্য তরকারির সঙ্গে পেঁয়াজু দিয়ে ভাত খেয়ে থাকেন। অনেকে শুধুই মুখরোচক পেঁয়াজু খেয়ে থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকে এই পেঁয়াজু নিতে আসেন ভোজন রসিকেরা।


বিজ্ঞাপন


ছোট ছোট পেঁয়াজু আকারে ছোট হওয়াও সহজে মজা করে খাওয়া যায়। এজন্যই সববয়সী ক্রেতাদের পছন্দ এই পেঁয়াজু। ইসলামপুর এলাকায় স্কুল কলেজের ছাত্রাবাস বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এসে নিয়ে যায় পেঁয়াজু।

শহিদুল ইসলামের বয়স ৫৭ বছর। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে পেঁয়াজুর ব্যবসা করছেন। শুরুর দিকে ১ টাকায় ৪টা পেঁয়াজু বিক্রি করলেও এখন সব জিনিষের দাম বাড়ায় ২ টাকায় ৩টা পেঁয়াজু বিক্রি করেন। যদিও এতে লাভ হয় সীমিত। এই পেঁয়াজু বিক্রি করেই ৭ সদস্যের পরিবার চালান তিনি। এই আয়েই ১ ছেলে ৪ মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছেন শহিদুল ইসলাম।

পেঁয়াজু তৈরির উপকরণ বাড়িতেই বানানো হয়। পেঁয়াজ, অ্যাংকর ডাল, আদা-রসুন, কাঁচামরিচ, জিরাসহ অন্যান্য মসলা দিয়ে দিনের বেলায় বাড়িতে প্রস্তুত করা হয়। সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন তিনি।

পেঁয়াজুর নিয়মিত এক ক্রতা ইমরুল কায়েস। পেশায় হোমিও চিকিৎসক। তিনি প্রায় প্রতিদিনই বাড়ির যাওয়ার পথে এই পেঁয়াজু নিয়ে যান। বাড়ির অন্য সদস্যরাও এই পেঁয়াজুর ভক্ত বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, খেতে খুব সুস্বাদু হওয়ায় প্রতিদিন ২০-৩০ টাকার পেঁয়াজু কিনি। এই পেঁয়াজু দিয়ে ভাত খেতে খুব মজা লাগে।

লেখক মজনুর রহমান জানান, রংপুর সরকারি কলেজে পড়ার সময় থেকে এই পেঁয়াজু খেয়ে থাকেন। প্রায় দিন সন্ধ্যায় পেঁয়াজু খাওয়ার জন্য আসেন তিনি।

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাঈদ আল মাসুদ জানান, সন্ধ্যা হলে প্রায় প্রতিদিন এই পেঁয়াজু খাওয়ার জন্য বন্ধুদের নিয়ে আসেন। ছুটিতে বাড়িতে গেলে সন্ধ্যায় খুব মিস করে বলে জানায় মাসুদ।

শহিদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেঁয়াজুর ব্যবসা করেন তিনি। দ্রব্যমুল্যের দাম বাড়ায় এখন লাভ হয় খুব সীমিত। ক্রেতারাই বলেন ১ টাকার ১টা পেঁয়াজু বিক্রি করতে। তারপরও তিনি ২ টাকায় ৩টা পেঁয়াজু বিক্রি করেন। প্রতিদিনি ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকার পিয়াজু বিক্রি হয়। তাতে ৬শ থেকে ৭শ টাকা লাভ হয়।

বিগত বছরগুলোতে দিনে রংপুর সরকারি কলেজে পেঁয়াজু বিক্রি করতেন। কিন্তু করোনার পর থেকে আর বিক্রি করেন না। কেননা প্রায় দিনই কলেজ বন্ধ থাকে। যা আয় হয় তাতেই সংসার চলে যায় বলে জানান, শহিদুল ইসলাম।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর