লক্ষ্মীপুর সদরে চর মনসা ইসমাইল দাখিল মাদরাসায় অফিস সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে মাদরাসাটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ার বেড়ী এলাকায় ওই মাদরাসা মাঠে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জড়ো হয়ে অনিয়মের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে। একপর্যায়ে ডিজির প্রতিনিধিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিক্ষুব্ধ জনগণের তোপের মুখে মাদরাসা থেকে সটকে পড়ে মাদ্রাসা সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ ও সুপার মাকছুদুর রহমান। একপর্যায়ে অফিস কক্ষে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকেন ডিজির প্রতিনিধি। পরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি এসে ওই প্রতিনিধিকে উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, মাদরাসাটির জন্য অফিস সহকারী একজন, নৈশপ্রহরী একজন ও আয়া পদে একজন লোক নিয়োগ করা হবে। এ ৩টি পদে প্রায় ৩০ আবেদন জমা পড়ে। শুক্রবার সকাল থেকে নিয়োগ পরীক্ষা চলে মাদরাসায়। বিকেলে মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে ধরা পড়ে মাদরাসা সভাপতি ও সুপারের সকল অনিয়ম ও দুনীতির চিত্র। যাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ভাল হয়েছে। তালিকায় তাদের নাম না রেখে সভাপতি ও সুপারের পছন্দের ৩ জন লোক তারা নির্ধারণ করেন। এনিয়ে শুরু হয় অভিভাবক ও বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর প্রতিবাদ। একপর্যায়ে তোপের মুখে মাদরাসা থেকে কৌশলে সটকে পড়ে সভাপতি ও সুপার।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল জাহের মানিক ও অভিভাবক মিজানুর রহমান জানান, মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে এ নিয়োগ চূড়ান্ত করার পায়তারা করছে। আয়া পদে যে নারীকে নিয়োগ দেওয়া সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই নারীর কাছে থেকে সভাপতি ও সুপার দুই লাখ টাকা দাবি করছে। কিন্তু নারী ১ লাখ টাকা দিয়েছে। এছাড়া বাকি দুইটি পদেও মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। আমাদের দাবি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।
মাদরাসার সুপার মাকছুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিজির প্রতিনিধি মাদরাসায় উপস্থিত ছিলেন।’
মাদরাসার সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ ঢাকা মেইলকে জানান, যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি তারা ও তাদের অভিভাবকরা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে নিয়োগ স্বচ্ছ হয়েছে। অনিয়ম-দুনীতির কোনো সুযোগ নেই। সরাসরি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেব ও ডিজির প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মাদরাসার বিদ্যুৎশাহী সদস্য সাইফুল হাসান রনি ঢাকা মেইলকে জানান, মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এমন খবর পেয়ে মাদরাসায় গিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, কোনোভাবেই নিয়োগ বাণিজ্য করার সুযোগ নেই। যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জড়িতদের বিরুদ্ধে।
টিবি




