যমুনা-ধলেশ্বরীতে ভাঙন, বাড়ি-জমি বিলীন

জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২২, ১১:১৯ এএম
যমুনা-ধলেশ্বরীতে ভাঙন, বাড়ি-জমি বিলীন
ছবি : ঢাকা মেইল

নদীর পারে তসলিম খান, সাবেক সেনা সদস্য তাহের উদ্দিন, কৃষক মনির হোসেনের ঘর। নদীভাঙনে দুইবার ঘর সরিয়েছেন। তাদের মতো হাজার মানুষের ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব বাসিন্দার অবস্থান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ফতেপুর বাজার এলাকায়। 

যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি কমতে থাকায় জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে প্রভাব পড়ছে। পানি কমার কারণে মির্জাপুরে বংশাই-লৌহজং নদীর তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহর ব্যবধানে নদী ভাঙনের ফলে ফতেপুর বাজার সংলগ্ন এলজিইডির পাকা রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। অসময়ে নদীর পার ভাঙনে মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে বাসাইল উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বংশাই ও লৌহজং নদীর মির্জাপুর উপজেলা অংশের ভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক হাজার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা অভিযোগ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরে ঘুরছেন। এছাড়া নদী পারের বহু পরিবারের বসত-ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে তারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আবার অনেক পরিবার রয়েছেন ভাঙন আতঙ্কে।

tangail

ফতেপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ফতেহপুর ইউনিয়নে প্রতি বছরই বংশাই নদী তীরে দুইবার ভাঙন দেখা দেয়। পানি বাড়ার সময় ও পানি কমার সময় এই দুইবার নদী তীর ভাঙতে থাকে। এ বছর পানি কমার সময় ভাঙনের মাত্রা ব্যাপক আকার ধারণ করছে।

তারা জানান, বংশাই নদীর ভাঙনের ফলে ফতেপুর, থলপাড়া, বৈল্যানপুর, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটা চাকলেশ্বরসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লৌহজং নদীতীরেও একই অবস্থা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, নদী ভাঙনে তাদের লাখ লাখ টাকার ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শুকনো মৌসুম হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা কোনো অনুকম্পা বা সহায়তা পাননি। বর্তমানে যদি ভাঙনরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আরও ব্যাপক হারে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তখন সব কিছু হারিয়ে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

এদিকে, লৌহজং নদীর পানি কমতে থাকায় মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার পরিবারগুলো নদীতীর ভাঙনের ফলে দিশেহারা হয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু অসময়ে নদী ভাঙনের কথা কেউ আমলে নিচ্ছেনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া এলজিইডির রাস্তাটি ভেঙে নদীতে বিলীন হওয়ায় ওখান দিয়ে আর রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশ-পাশ বা অন্য কোনো স্থান দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, বংশাই ও লৌহজং নদীতে পানি কমতে থাকায় কোনো কোনো এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক পর্যায়ে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ব্লক ফেলে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ জানান, অসময়ে নদী ভাঙনে উপজেলার গাড়াইল, পুষ্টকামুরী উত্তরপাড়া, বাওয়ার কুমারজানিসহ বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের প্ররেয়াজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রতিনিধি/এইচই