খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ

নির্মাণের দুই বছরেও ছাত্রীনিবাস চালু হয়নি

নীরব চৌধুরী বিটন খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৩৯ পিএম
নির্মাণের দুই বছরেও ছাত্রীনিবাস চালু হয়নি
ছবি : ঢাকা মেইল

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের একশ বিশিষ্ট শয্যা ছাত্রীনিবাসটি নির্মাণের দুই বছরেও চালু হয়নি। সবধরনের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ভবন থাকলেও জনবল ও আর্থিক সংকটের কারণে চালু করা যায়নি ছাত্রীনিবাস। ছাত্রীনিবাসটি চালু না হওয়ায় শহরের বিভিন্ন মেসে বাড়তি ভাড়ায় থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের পরিবার।

জানা যায়, প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে কলেজে সবধরনের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল ভবন নির্মাণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। ২০২০ সালে ভবনের নির্মাণ কাজ শেষে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছাত্রীনিবাসে উঠতে পারছেন না দুর্গম জনপদের শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রীনিবাসের প্রতিটি কক্ষে শয্যা, পড়ার টেবিলসহ আসবাবপত্র রাখা হলেও সেখানে থাকছেন না কোনো শিক্ষার্থী। ব্যবহার না হওয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে ভবনের আসবাবপত্র। 

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে আসা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নুরজাহান নাদিয়া বলেন, অনেক দূর থেকে এই কলেজে পড়তে এসেছি। এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়া চালিয়ে যেতে মাসে অনেক টাকা খরচ হয়। হোস্টেলটি চালু থাকলে অর্ধেক খরচে লেখাপড়া করতে পারতাম।

khagrachari
  
মাটিরাঙ্গা উপজেলার একাদশ শ্রেণির আরেক ছাত্রী ছেলি ত্রিপুরা বলেন, সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে গরীব-মেধাবী ছাত্রীরা। যেমন আমার পরিবার জুম চাষের ওপর নির্ভর। শহরের বাসা ভাড়া করে পড়াশোনা করা অসম্ভব। টাকার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত কলেজে আসে না। আমাদের কথা চিন্তা করে দ্রুত ছাত্রী হোস্টেলটি চালু করা প্রয়োজন।   

দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়ন থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমিষ্টি চাকমা ও নায়থকটির ত্রিপুরা বলেন, আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা চালাতে নানান সমস্যায় পড়তে হয়। হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করলে এ সমস্যায় পড়তে হতো না। বৃহস্পতিবারে ক্লাস করে বাড়ি চলে যাই। আবার শনিবারে এসে ক্লাস করি।    

কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বোধি সত্ত্ব দেওয়ান বলেন, পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষ গরীব। দরিদ্র পরিবার থেকে এসে ওরা এখানে পড়াশোনা করে। আবাসনের কারণে তাদের পড়াশোনা করতে অসুবিধা হচ্ছে। কলেজের সদ্য পাঁচতলা বিশিষ্ট হোস্টেলটি যদি চালু হয়, তাহলে এখানকার দরিদ্র পরিবার থেকে আসা ছাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা করতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, দুর্গম এলাকার দরিদ্র পরিবারের ছাত্রীরা উচ্চমূল্যে বাসা ভাড়া করে পড়াশোনা করা কঠিন। বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে আসা ছাত্রীদের হোস্টেল ব্যবস্থা না থাকার কারণে তারা পড়ালেখা না করে ছেড়ে চলে যায়। ভর্তি হয়েও আবাসিক সুবিধা না থাকার কারণে অকালে ঝরে যায় তারা।    

khagrcgari

প্রবীন শিক্ষাবিদ মধু মঙ্গল চাকমা বলেন, পার্বত্য এলাকায় অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও উন্নত হয়নি। অনেক দূর থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে আসা-যাওয়া করে। বিশেষ করে বর্ষা সময়ে আসা-যাওয়া করতে পারে না। প্রতিদিন ক্লাস করতে পারে না।
 
তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য ছাত্রীনিবাসটি জরুরিভিত্তিতে চালু করা দরকার। আমরা চাই মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে মেয়েরা আলোকিত মানুষ হোক। আলোকিত মানুষের মাধ্যমে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। তাই হোস্টেলের সুবিধা পেলে তারা আলোকিত মানুষ হবে, ভালো মানুষ হবে। 

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিছবাহুদ্দীন আহমদ বলেন, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। পর্যাপ্ত কর্মচারী এবং ফান্ডিং না থাকায় চালু করা যাচ্ছে না। আমরা দুইবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। 

তিনি বলেন, হোস্টেলটি চালু করলে প্রান্তিক অঞ্চলের গরীব-মেধাবী ছাত্রীরা থাকার সুযোগ পাবে। তারা লেখাপড়ায় এগিয়ে যাবে। যেভাবে হোক দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এ ছাত্রী হোস্টেলটি চালু করা হবে।  

প্রতিনিধি/এইচই