ভাতিজিসহ নিকট আত্মীয়দের নিয়োগ ও শতাধিক দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলীর মেয়াদের শেষ দিন ছিল রবিবার (৬ মার্চ)। উপাচার্যের বিদায়ের এই দিনে তাঁর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ধিক্কার, ঝাড়ু মিছিল ও জুতা প্রদর্শন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় তাঁরা উপাচার্যের দেয়া সব অবৈধ নিয়োগ বাতিল, গণনিয়োগ বন্ধ এবং সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। শিক্ষার্থী প্রতীকীভাবে রোস্তম আলীর উদ্দেশ্যে থু থু নিক্ষেপ করেন।
রবিবার (৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে ঝাড়ু মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিজ্ঞান ভবন, ভিসির বাসভবন, অ্যাকাডেমিক ভবন ও প্রধান গেট ঘুরে আবার স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে স্বাধীনতা চত্বরে অবস্থান নিয়ে নানা শ্লোগান দেন তারা। শিক্ষার্থীরা ‘ধর ধর রোস্তম ধর, ধইরা ধইরা ঝাড়ু মার’, ‘ভিসির দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘হইহই রইরই, রোস্তম তুই গেলি কই’, ‘অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানবো না’, ‘দুর্নীতিবাজ ভিসির, বিচার চাই করতে হবে’, ‘রোস্তমের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’সহ নানা স্লোগান দেন।
বিজ্ঞাপন
তবে বিদায়ের দিনে ক্যাম্পাসে ছিলেন না আলোচিত এই উপাচার্য। অবৈধ নিয়োগ বাতিল, গণনিয়োগ বন্ধ ও উপাচার্যের দুর্নীতির বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গোপনে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন উপাচার্য। প্রথম দিকে ঢাকাস্থ পাবিপ্রবির নিজস্ব অফিসে অবস্থান করলেও এখন তিনি রাজশাহীতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে টানা ৯ম দিনের মতো তালাবদ্ধ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার অফিস। ১৭ দফা দাবিতে কর্মকর্তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় রেজিস্টার অফিসে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন কর্মকর্তারা। ফলে অফিসে প্রবেশ করতে পারেননি রেজিস্ট্রারসহ অফিসের কর্মকর্তারা।
অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা রেজিস্ট্রার স্যারের কাছে কথা বলতে গিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে তিনি কোনও আশ্বাসই দেননি। এছাড়াও বিভিন্ন মারফত উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, তাঁর যেহেতু মেয়াদ শেষ তাই এবিষয়ে তাঁর কোনও করণীয় নেই।’
অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল্লাাহ আল মামুন বলেন, ‘আজকে আমাদের আন্দোলনের ৯ম দিন। অথচ এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলেতে আসেননি। আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
বিজ্ঞাপন
এবিষয়ে রেজিস্টার বিজন কুমার ব্রহ্ম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আজও আমি অফিসে প্রবেশ করতে পারেনি। অন্যের অফিসে বসতে হচ্ছে। অন্যের অফিসে কতক্ষণ কাজ করা সম্ভব? কিছুক্ষণ কাজ করে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছি। এই মুহুর্তে ভিসি স্যারও নেই, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারও নেই। ফলে তাদের দাবিগুলো নিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ারও কেউ নেই।’
এবিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যবিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বরাবরের মতো ফোনকল কেটে দেন।
উল্লেখ্য, রবিবার (৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলীর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের ৭ মার্চ নিয়োগ পাওয়া বিতর্কিত এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে শতাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদ শেষের দিকে তিনি সেকশন অফিসার পদে নিজের আপন ভাতিজি কানিজ ফাতেমা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওলিউল্লাহসহ ১০২টি পদে নানা অনিয়মে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এজে

