রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

কুমিল্লায় অটোরিকশার টোকেন বাণিজ্য: বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনা

সাকলাইন যোবায়ের
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪৬ এএম

শেয়ার করুন:

কুমিল্লায় অটোরিকশার টোকেন বাণিজ্য: বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনা
ছবি: ঢাকা মেইল

টোকেন বাণিজ্যের কারণে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দেদারছে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচল। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে প্রতিদিনই ঘটছে যানজট ও দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেক তাজা প্রাণ ঝড়ে যায় আবার অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেন।

জেলা পুলিশের তথ্য বিভাগ থেকে পুলিশ কনস্টেবল এমদাদ জানান, গত তিন মাসে ১১ যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। পঙ্গুত্ববরণ করে অভিশপ্ত জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচলকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।


বিজ্ঞাপন


অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এরা মানে না প্রশাসনের কোনো নিষেধাজ্ঞা। এদিকে, মহাসড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমতি নেই। কিন্তু চালকরা বিভিন্ন থানা, হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে মহাসড়কে অটোরিকশা নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যার কারণে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।

cumilla

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম বিভাগের হাজার হাজার যানবাহন কোম্পানীগঞ্জ বাজারের ওপর দিয়ে চলাচল করে। মাঝে মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের গাড়িগুলো ঢাকার পথে দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় যানজট সৃটি করে। তখন ঢাকাগামী গাড়িগুলো ক্যান্টনমেন্ট হয়ে কোম্পানীগঞ্জ দিয়ে ভৈরব হয়ে ঢাকা যায়। এসময় সড়কের মোড়ে মোড়ে রাস্তার ওপর বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে চাঁদা আদায় করতে দেখা যায় বিভিন্ন ল্যাইনম্যানকে। আর অপর এক পক্ষ দেখে অটোরিকশাতে টোকেন আছে কিনা। দেবিদ্বার পান্নার পুল থেকে শালধর পর্যন্ত টোকেন দিয়ে অটোরিকশা থেকে টাকা সংগ্রহ করে লাইনম্যানরা। এরপর তারা সেই টাকা দেয় পুলিশকে। হাইওয়েতে প্রতি সিএনজি চলাচলে ৫০০ থেকে ১০০০ দিতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অটোরিকশার চালকরা জানান, বিভিন্ন নামে মাসিক টোকেন নিয়ে থানা, হাইওয়ে ও টাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে মহাসড়কে অটোরিকশা চালায় তারা।


বিজ্ঞাপন


রোববার (১৬ অক্টোবর) কুমিল্লা হাইওয়ে রিজিওয়নের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা আপনারদের মাধ্যমে টোকেনের বিষয়টি জেনেছি। আমরা অলরেডি ইনকোয়েরিতে নেমেছি। এতে হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।’

কুমিল্লা জেলা ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ঢাকা মেইলকে জানান, বিষয়টিকে প্রেফারেন্স দিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা  টোকেনের মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করে এবং কোন কোন পুলিশ সদস্য জড়িত আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

cumilla

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি এবং সচেতন নাগরিক কমিটির কুমিল্লার সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শাহ্ মোহাম্মদ আলমগীর খান জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল খুবই দুঃখের ব্যাপার। মহাসড়কে তিন চাকার ছোট যানবাহন চলার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কটি দেশের অন্যান্য মহাসড়কগুলোর তুলনায়  প্রশস্ত অনেক কম। তাই পাশা-পাশি দুটি বাস ক্রসিং করতে অনেক বেগ পেতে হয়।

হাইওয়ে পুলিশ ইনচার্জ কামাল উদ্দিন ও টাফিক সার্জেন্ট মো. আবু হাসনাত টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে মহাসড়কে উঠতে দেয় না। এ কারণে অটোরিকশার চালকরা পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছে। পুলিশ টোকেন বাণিজ্য করে না। ফুটপাতে দোকান আর অতিরিক্ত গাড়ির চাপেই যানজট হচ্ছে।

টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর