আজ মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ

জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৫৫ এএম
আজ মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন বলেছেন মৌসুমজুড়ে ইলিশের আকাল আর বারবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ শিকার বন্ধ রাখার মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য ২২ দিনের অবরোধ। ৭ অক্টোবর (৬ অক্টোবর রাত ১২.০১ মিনিট) শুরু হওয়া মৎস্য শিকারে এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

ইলিশের ডিম ছাড়ার উপযুক্ততা অর্জিত না হওয়ায় মৎস্য বিভাগের এ সময় নির্ধারণ যথাযথ নয় বলে মনে করছেন জেল ও মাছ ব্যবসায়ীরা। সময় নির্ধারণের বিষয়টি মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় এ নিয়ে কথা বলতে রাজি নন পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জালে চলছে ইলিশের আকাল। বেশ কয়েকবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দফায় মাসাধিককাল বন্ধ ছিল সাগরে মাছধরা। মৌসুমের শুরুতে ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগর যাত্রায় এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে তার অধিকাংশই আকারে ছোট। বাজার দর ভালো পেলেও পরিমাণে মাছ কম পাওয়ায় প্রতিবার সাগর যাত্রার ব্যয়ের অর্ধেক ওঠেনি জেলে ও ট্রলার মালিকদের। এরই মাঝে ৭ অক্টোবর থেকে মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য সাগর ও নদী মোহনায় মাছ শিকার বন্ধ রাখতে হচ্ছে ২২ দিন। সময় নির্ধারণ যথোপযুক্ত নয়, মনে করে হতাশ জেলে ও ব্যবসায়ীরা।

মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, ইলিশ সারা বছরই কমবেশি ডিম ছাড়ে। তবে আশ্বিন মাসের অমাবস্যা ও ভরা পূর্ণিমায় ইলিশ প্রচুর ডিম ছাড়ে। প্রজননের এই প্রধান সময় ইলিশ গভীর সাগর থেকে মোহনা ও নদীর মিঠা পানিতে ছুটে আসে।

জেলেরা অকপটে স্বীকার করেন, মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য ২২ দিনের অবরোধের সুফল তারা পাচ্ছেন। ইলিশের সঙ্গে অন্যান্য মাছেরও উৎপাদন বেড়েছে। অবরোধকালকে সফল করার বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। তবে এ সময় দেওয়া প্রণোদনা বাড়ানো এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকৃত ইলিশ শিকারিদের মাঝে বিতরণ ও পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের মাছধরা বন্ধের দাবি জেলেদের।

মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম বেপারী বলেন, ধরা পড়া শতকরা ১০ ভাগ ইলিশের পেটে ডিম নেই। সময়টি যদি আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হতো, তবে মা ইলিশ পরিপক্বতা অর্জন করত। মোহনায় অনেক বেশি ডিম দিত। মেরিন অ্যাক্টের মাধমে মৌসুমের শুরুতে যে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় সেটি মা ইলিশের প্রজনন সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে করলে উৎপাদন আরও বাড়ত।  

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ-অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সময়টি যথোপযুক্ত। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কিছু পরিবর্তন হয়তো হতে পারে। সেটি নিয়ে পরীক্ষা না করে কিছু বলা যাবে না। তিনি আরও বলেন, অনিবন্ধিত অনেক জেলে রয়েছে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা দরকার। যারা জেলে নয়, অথচ জেলে হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে, তাদের বাদ দেওয়া উচিত। এ নিয়ে মৎস্য বিভাগের একটি প্রকল্প ছিল। সেটি পুনরায় চালু করা দরকার।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৬৩ হাজার ৮৪৮ জন। এর মধ্যে ৫৮ হাজার জেলে জনপ্রতি ২০ কেজি করে পাচ্ছেন সরকারি প্রণোদনার চাল। অবরোধ সফল করতে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এবং জেলেপল্লীতে প্রচারাভিযান, ধারাবাহিক সভা করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রসাশন, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশের একাধিক টিম সমন্বয়ের মাধ্যমে জলে ও স্থলে এই বিষয়ে কাজ করবে।’

প্রতিনিধি/একেবি