পুলিশ সুপার পরিচয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ১০ বছরের সাজা 

জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৫৯ পিএম
পুলিশ সুপার পরিচয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ১০ বছরের সাজা 

মিথ্যা পরিচয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সোহাগ মাহমুদ বাপ্পী ওরফে রনিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন রাজশাহীর সাইবার ট্রাইবুনাল আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

রোববার (২ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জিয়াউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুইটি পৃথক ধারায় এ রায় ঘোষণা করা হয়। 

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর বগুড়া পুলিশ লাইন্সের আরআই জয়নাল আবেদীন মিয়া আরেক আরআই সদস্য রবিউল ইসলামকে ০১৭৩৩-৩....৮ নম্বরটি দেয়। তাকে (রবিউল) বগুড়ার আকবরিয়া হোটেলের সামনে গিয়ে ওই নম্বরে কথা বলতে বলে। 

রবিউল ইসলাম রওনা হলে পথিমধ্যে মফিজ পাগলার মোড়ে পৌঁছালে এএসআই নাজমুল হোসেন ওই নম্বরে কথা বলতে বলে। ওই নম্বরে কল দিলে সোহাগ মাহমুদ বাপ্পী মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম রকেটের দোকানে কথা বলতে চান। পরে রকেট দোকানে নিজেকে পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে তার নিকট আত্মীয় গুরুতর অসুস্থ বলে জানায়। 

এজন্য জরুরী ভিত্তিতে টাকার প্রয়োজন জানিয়ে প্রতারক পৌনে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা নেওয়ার সময় প্রতারক আরও জানান, তার লোক ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দিয়ে যাবে। টাকা পাঠানোর সাথে সাথে প্রতারক ফোন বন্ধ করে দেয়। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বগুড়া সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের হয়।  

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার শুরু হলে আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। 

রায়ে আদালত আসামি সোহাগ মাহমুদ বাপ্পী ওরফে রনিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুইটি পৃথক ধারায় শাস্তি প্রদান করেন। এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৩(১)/২৪(১) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৩(২) ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। 

এছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৪(২) ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। 

তিনি আরও বলেন, সাজা একটার পরে একটা কার্যকর হবে। এই মামলার সংশ্রবে আসামির হাজতবাস মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। আসামি পলাতক থাকায় তার গ্রেফতার বা আত্মসমর্পনের তারিখ থেকে সাজা কার্যকর হবে। সেই মর্মে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়াও ঘটনার সময় কর্মরত তৎকালিন আরআই জয়নাল আবেদীন, এএসআই নাজমুল হোসেন, কনস্টেবল রবিউল ইসলামের থেকে নিজ নিজ ভূমিকা অনুযায়ী সর্বমোট পৌনে দুই লাখ টাকা আদায় করে প্রকৃত ভিকটিম হিসেবে ওই টেলিকমের দোকানদার রেজাউল করিমকে প্রদানের জন্য বগুড়া জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এজে