প্রেমের পর বিয়ে, অতঃপর দিন কাটে স্বামীর বাড়ির উঠানে

জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:০৩ এএম
প্রেমের পর বিয়ে, অতঃপর দিন কাটে স্বামীর বাড়ির উঠানে
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেম। বাড়িতে ডেকে বিয়ে। সংসারও করেছেন দুই মাস। এরপর স্ত্রীকে নির্যাতনের পর তালাবদ্ধ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে উধাও প্রেমিক স্বামী। সেই নববধূর দিন কাটছে স্বামীর বাড়ির উঠানে। 

ঘটনাটি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁওয়ের।

স্থানীয়রা জানান, আজাদুর রহমান আজাদের (২৫) সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর একই গ্রামের ফারজানা বেগমের (১৯) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ জুলাই রাতে প্রেমিকের বাড়িতে ডেকে দু’পক্ষের পঞ্চায়েত মিলে তাদের বিয়ে দেন। তবে কাবিননামা অসম্পূর্ণ থাকে।

স্থানীয়রা আরও জানান, বর্তমানে সেই বাড়ির দু’টি ঘর এখন তালাবদ্ধ। সেখানকার পশ্চিম ঘরের বারান্দায় ব্যাগের মধ্যে কাপড় চোপড় নিয়ে বসে আছেন হতাশাগ্রস্ত নববধূ ফরাজানা বেগম।

এদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত ২০ জুলাই দু’পক্ষের পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে তাদেরকে বিয়ে পড়ানো হয়। পরবর্তীতে বিরোধ দেখা দিলে গত ২১ আগস্ট দু’পক্ষের পঞ্চায়েতদের নিয়ে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তে ১ লাখ ১ হাজার টাকা দেনমোহর সাব্যস্ত করা হয় এবং পরদিন কাজি অফিসে গিয়ে নিকাহ সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু কাবিন না হওয়ায় আবারও বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। সমাধানের চেষ্টা চলছে। কিন্তু গত তিন দিন হলো স্ত্রীকে একা বাড়িতে ফেলে রেখে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান আজাদ। মেয়েটি একা থাকতে দেখে পাশের বাড়িতে আপাতত থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

নববধূ ফারজানা বেগম বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের পর গত ২০ জুলাই রাতে আজাদুর রহমান আজাদ তার বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর দু’পক্ষের পঞ্চায়েত মিলে বিয়ে পড়ান। কিছুদিন যাওয়ার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করা শুরু করেন এবং বলেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে। গত সোমবার স্বামীসহ বাড়ির সবাই আমাকে ঘর থেকে বের করে দরজা, জানালা বন্ধ করে তারা সবাই বাড়ি থেকে চলে যান। আমি নিরাপত্তাহীন ও অসহায় অবস্থায় গত দুদিন থেকে বাড়ির উঠানে দিন-রাত কাটাচ্ছি।

আজাদুরের মামাতো ভাই সালাউদ্দিন ও কান্দিগাঁও গ্রামের পঞ্চায়েত নেতা মো. হান্নান জানান, আজাদ মেয়েটিকে তার বাড়িতে আনার পর স্থানীয় হুজুর হাফেজ খোরশেদ আলী তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেন। তবে বর্তমানে মেয়েটির ওপর স্বামী ও তার বাড়ির লোকজন অমানবিক আচরণ শুরু করেছে। এখন মেয়েটি খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চেয়ে আজাদুর রহমানকে পাওয়া না গেলেও বড় ভাই নূর রহমান বলেন, মেয়েটা নিজে ইচ্ছাতে বাড়িতে আসে। তারপর মেয়েকে আমার ভাইয়ের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে আমার ভাই নিখোঁজ রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিফাত উদ্দীন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিনিধি/এইউ